কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশাকে আর বাঁচানো গেল না। ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রোববার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে তার মৃত্য হয়েছে। সোমবার সকালে কুবির প্রক্টর আইনুল হক নিশার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিশা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার আসকিনা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবু হাসানের মেয়ে। ঢাকা থেকে মুঠোফোনে নিশার মামা তারিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, রাত দেড়টার দিকে ডাক্তাররা নিশার মৃত্যুর খবর জানায়। নিশার অসুস্থ বাবা ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় রয়েছেন। তাকে এখনো মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিশার মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আসকিনায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি জানান। যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত ও মামলাএর আগে গত ২৩ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর গ্রামে বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম মৃধার ‘প্রশান্তি’ (মেস) নামের বাসার নিচতলায় বিস্ফোরণে ফাহমিদা দগ্ধ হন। এতে ওই ভবনের নিচতলার জানালার গ্রিল উড়ে যায় ও কাচ ভেঙে যায়। পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই শহীদুল বাশার সন্ত্রাস দমন আইনে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনসহ ৩ ছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার ৩ আসামি হলেন নুরুন্নাহার, মর্জিনা আক্তার ও দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসান। ফাহমিদা হাসান নিশা অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিল। তাকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। পুলিশ সূত্র জানায়, ভয়াবহ তরল জাতীয় কিছু (হাই এক্সক্লুসিভ লিকুইড) বিস্ফোরিত হয়ে হয়তো ফাহমিদা হাসান দগ্ধ হয়েছিল। ঘটনার দিন ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুস সালামের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কিছু আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খাদেমুল বাহার বলেন, এ মামলায় এজাহার নামীয় ৩ জনের মধ্যে নিশা গত রাতে মারা গেছে। গ্রেফতার হওয়া অপর ২ জন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুন্নাহার ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মর্জিনা আক্তারকে ইতোমধ্যে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। কামাল উদ্দিন/এসএস/এমএস