দেশজুড়ে

বরিশালে কোরবানির পশুর হাট বসছে আজ

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বুধবার থেকে বরিশালে বসছে কোরবানির পশুর হাট। এবার নগরীতে দুটি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। আর জেলার ১০ উপজেলায় অনুমোদন মিলেছে ১১ অস্থায়ী পশুর হাটের। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরো ৩টি অস্থায়ী পশুর হাট।তবে অনুমোদন ছাড়াই অর্ধশত অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর প্রস্ততি চলছে জেলার ১০ উপজেলায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের তদারকিতে কয়েক বছর ধরেই অনুমোদন ছাড়াই এসব হাট বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় জেলায় এবারও বসছে অর্ধশত অস্থায়ী পশুর হাট।বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) হাট-বাজার শাখার সুপার নুরুল ইসলাম জানান, এবার নগরীতে দুটি স্থায়ী হাটের সঙ্গে ৭টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দিয়েছে। বাঘিয়া ও পোর্ট রোডে দুটি স্থায়ী হাট ছাড়া অস্থায়ী হাটগুলো হলো- রূপাতলী গ্যাস টারবাইন মাঠ, তার অদূরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, বরিশাল বেতার কেন্দ্রর অদূরে মোল্লা বাড়ি মাঠ, কাউনিয়া টেক্সটাইল মাঠ, নবগ্রাম সড়ক যুবক হাউজিং মাঠ, কালুশাহ সড়ক মীরা বাড়ির পুল এবং আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল মাঠ। সিটি করপোরেশনের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার থেকে ঈদ উল আযহার আগের রাত পর্যন্ত হাটগুলোতে পশু ক্রয় বিক্রয় হবে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালুশাহ মীরা বাড়ির পুলের হাট বসানো হয়েছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উপজেলা পরিষদের বিপরীত দিকে। অন্যদিকে, জেলার ১০ উপজেলায় অনুমোদন মিলেছে ১১ অস্থায়ী পশুর হাটের।এদিকে, বরিশালের খামারিরা স্থানীয়ভাবে পালন করা গরু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। বরিশালে স্থানীয় গরুর চাহিদাই বেশি। বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং বরগুনার চরাঞ্চল থেকে আসা এসব গরু গোটা দক্ষিণাঞ্চলের কোরবানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে খামার মালিকদের আতঙ্ক হলো উত্তরাঞ্চল ও ভারতীয় গরু। তারা বলছেন, বরিশাল অঞ্চলে খামারিদের কাছে এবার যে পরিমাণ ষাঁড়, গরু, মহিষ, ছাগল রয়েছে তাতে কোরবানি দিয়েও বারতি থেকে যাবে। অন্য এলাকার পশুর প্রয়োজন হবে না। এর উপর যদি উত্তরাঞ্চল ও ভারতীয় পশু প্রবেশ করে তবে তারা মাঠে মারা পড়বেন। বরিশাল বিভাগীয় পশু সম্পদ বিভাগের তথ্যনুযায়ী, এ বছরে বরিশালের ৬ জেলার ৩৩৫টি হাটে প্রায় তিন লাখ গরু, মহিষ ও ছাগল আসবে। এর মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক পশু আসে বিভিন্ন ডেইরি ফার্ম থেকে। বাকিগুলো আসছে কৃষকদের মাধ্যমে। তাদের মতে, এ ছাড়াও প্রায় ৩ লাখ পশু দক্ষিণাঞ্চলে মজুদ রয়েছে।  বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা স্থানীয় পশু দিয়েই মিটে যায়। খামারিদের রক্ষার্থে বাইরের পশু যাতে বরিশালে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।এদিকে, বরিশালে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ক্ষেত্রে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে তারা। পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমীন বলেন, যে কোনো মূল্যে ঈদ উল আযহার পশুর হাট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত করা, টাকার লেনদেনসহ ক্রেতা, বিক্রেতা ও বেপারিদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।  নগরীর ২টি স্থায়ী এবং ৭টি অস্থায়ী পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিটি হাটের জন্য একটি করে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন চাওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানান। সাইফ আমীন/এসএস/পিআর