ঢাকার ট্যানারি মালিকরা কারখানা স্থানান্তরের অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের বিপুল অংকের বকেয়া টাকা পরিশোধ করেনি রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের। তাই এ বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চাহিদামতো চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।আর বাজারে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রধান উপকরণ লবণের দাম হঠাৎই বেড়ে যাওয়ায় নাখোশ এ অঞ্চলের চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা। রাজশাহী মহানগরী ও আশেপাশের কয়েকটি উপজেলা ঘুরে এ ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সারা বছর এ অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীরা নানাভাবে চামড়া সংগ্রহ করলেও তাদের টার্গেটের প্রায় আশিভাগ চামড়া সংগ্রহ হয় ঈদুল আজহায়। বিগত বছরগুলোতে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম দিয়ে চামড়া কিনলেও লোকসানের আশঙ্কায় এ বছর সরকারিভাবে নির্ধারিত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ টাকা, ছাগল ২০ টাকা, বকরি ১৫ টাকা ও মহিষ ২৫ টাকা মূল্যে কিনেছেন। আর দেশের বাজারে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। আর ট্যানারি মালিকরা তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে পুঁজি হারিয়ে বাধ্য হয়েই তারা এ পেশা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। মহানগরীর সপুরা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী জাহিদ জানান, তিনি দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত আছেন। তবে গত বছর তিনি প্রায় কয়েক হাজার পিস চামড়া ঢাকার দুটি ট্যানারি কারখানায় সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও মোট টাকার প্রায় ১০ ভাগ টাকা তিনি পেয়েছেন। তাই এ বছর তিনি বেশি চামড়া সংগ্রহ করেননি। কারণ আগের বছরের টাকাই তিনি পাননি। সেখানে একই কারখানায় চামড়াগুলো সরবরাহ করলে তার দামও বকেয়া পড়ে থাকবে। তিনি এ পরিস্থিতির হাত থেকে মুক্তি পেতে সরকারের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নগরীর কোর্ট ঢালুর মোড় এলাকার অপর চামড়া ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি গত বছর বেশি লাভের আশায় ধার ও বাকিতে বিভিন্ন মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন ট্যানারি কারখানার মালিকরা। তবে দীর্ঘ এক বছর পার হলেও তিনি সরবরাহকৃত চামড়ার টাকাগুলো পাননি। তাই তিনি এ বছর বেশি চামড়া সংগ্রহ করেননি বলে জানান। জেলার পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী সোলাইমান জানান, গত বছর তিনি সরকারি মূল্যের চেয়েও কিছুটা বেশি টাকায় চামড়া কিনেছিলেন। লাভ কম হলেও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে তিনি এ কাজ করেছিলেন। এ সময় ট্যানারি মালিকরা তাদের ব্যবসায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতার কথা বললেও, এখন পর্যন্ত চামড়ার মোট টাকার মাত্র ১০ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছে। তাই তিনি পুঁজি হারানোর আশঙ্কা করছেন। চারঘাট উপজেলা বাজারের আব্দুল লতিফ নামে এক চামড়া ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় চামড়া সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি রেটে চামড়া সরবরাহ করলে তিনি ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ জানান, ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় অনেক বিদেশি চামড়া ব্যবসায়ী অর্ডার বাদ দিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। আর তাদের দেশ ত্যাগের প্রভাব পড়েছে এ শিল্পে। তবে এ অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য তিনি ট্যানারি কারখানার মালিকদের কয়েক দফায় অনুরোধ করেছেন। তাদের পাওনা টাকা খুব তাড়াতাড়ি পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাসও প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।শাহরিয়ার অনতু/এসএস/এমএস