ভয় আর আতঙ্কে ভরা চোখ দুটো দিয়ে বার বার এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে শিশুটি বলে উঠলো, মা-বাবা দুজনই আমাকে মারতো। আম্মা গালে মুখে কামড়াতো। আমাকে দিয়ে ঘরের সব কাজ করাতো। কিছু থেকে কিছু হলেই মারতো। আগুনের ছ্যাঁকা দিত। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের বল্লাল বাড়ি এলাকার সিরাজ মিয়া ও কল্পনা দম্পতির দত্তক নেয়া মেয়ে সুবর্ণা (০৬)। বুধবার স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে দিয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সুবর্ণার মা ভারতী মারা যাওয়ার পর বাবা চাঁন মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দেড় বছর আগে সুবর্ণাকে দত্তক নেন সিরাজ মিয়া ও কল্পনা দম্পতি। এরপর থেকেই চলতে থাকে অত্যাচার-নির্যাতন। সুবর্ণা পরিণত হয় গৃহকর্মীতে। তাকে প্রতিনিয়ত মারধর করে করানো হতো বাড়ির সব কাজ।মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, শিশু সুবর্ণাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশুটির শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা ও চোখে-মুখে মারধরের ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রথমে তাকে শিশু ডাক্তার ও চোখের ডাক্তার দেখিয়ে সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশকে অবগত করা হয়। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। নাহলে আরো সমস্যা হতে পারে। মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, শিশু সুবর্ণা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। কল্পনা বেগমের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ৩। শিশু সুবর্ণাকে আদালতের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তাস্তর ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। কল্পনা বেগমকে খোঁজা হচ্ছে।এফএ/এবিএস