ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও ঘর-বাড়িতে হেফাজত কিংবা হুজুররা নয় প্যান্ট-শার্ট পরা যুবকরাই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত গৌরমন্দির পরিদর্শন শেষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ দাবি করেন।মন্ত্রী বলেন, হেফাজত বা হুজুররা কেউ এসে নাসিরনগরে মন্দির ও ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করেনি। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন মন্ত্রীর এই দাবির প্রতি আপত্তি জানালে তিনি তার কথা পাল্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে হলো, প্যান্ট-শার্ট রা যুবকরাই ভাঙচুর করেছে। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম মো. মনিরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেমসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র করে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০) একটি পোস্ট দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও রসরাজের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে নাসিরনগর উপজেলা। পরদিন ৩০ অক্টোবর সকালে স্থানীয় কলেজ মোড় ও আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে উপজেলা হেফাজতে ইসলাম এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান করে। ওই সমাবেশ থেকেই শত শত লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি মন্দির ও শতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং লুটপাট করে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/পিআর