পানির পাইপলাইনে মিটার বসানোর উদ্যোগ নিচ্ছে রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীতে গ্রহক পর্যায়ে ১৬ হাজার ৩৬৫টি মিটার বসানো হবে। তবে এ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ।ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, নগরীতে বেশি পানি ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের বাছাই করে বসানো হবে এসব মিটার। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহককেই নেয়া হবে মিটারের অওতায়। পানির অপচয় কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ওয়াসার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মিটার সংযোজন ছাড়াও নগরীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে বসানো হবে আরো ২২ নতুন উৎপাদক পাম্প। এছাড়া বন্ধ হতে বসা ৪০টি উৎপাদক পাম্প রি-জেনারেশন করা হবে। পুরাতন লাইন সংস্কার ও নতুন লাইন স্থাপন করা হবে ৮০ কিলোমিটার। এছাড়া আধুনিকায়ন করা হবে পানি পরীক্ষাগারটি। ডিজিটালাইজ করা হবে রাজশাহী ওয়াসাকেও। রাজশাহী মহানগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনঃসংস্কারের ওই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ।সূত্রটি আরো জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ওই প্রকল্পের ১৬টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১৭ নভেম্বর ছিল দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। ১২ কোটি টাকার এ দফার কাজ পেতে প্রায় ৮৬টি দরপত্র জমা পড়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাদের পছন্দমত ঠিকাদারতের কাজ পাইয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এ নিয়ে বাধা দেয়া হয়েছে অন্য ঠিকাদারদের। দরপত্র জমা দেয়ার পরও তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি দেয়ায় তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন একজন ঠিকাদার। প্রতিটি প্যাকেজে তিন জন করে নয়জন ঠিকাদার কাজগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন।ওয়াসা কর্তৃপক্ষের যোগসাজসেই এটি হয়েছে । এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মাহমুদ বলেন, সকল ঠিকাদারের দরপত্র জমা দেয়া নিশ্চিত করতে নগর পুলিশ কমিশনারের দফতরেও দরপত্র বক্স বসানো ছিল। এনিয়ে ওয়াসা ভবনেও ছিল পুলিশি পাহারা। র্যা বও টহল দিয়েছে। এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর তাদের কাছে নেই। ঠিকাদারদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ হয়ে থাকলে সেটি বাইরে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, ১৬টি প্যাকেজের দরপত্রে অংশ নিতে প্রায় ৮৫টির মত শিডিউল জমা পড়েছে। ব্যাংক থেকে হিসেব না পাওয়ায় বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে সময় লাগবে। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা। এ নিয়ে নিজেদের যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।ওই প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজাহার আলী বলেন, রাজশাহী নগরীতে হোল্ডিং রয়েছে ৫৮ হাজারের মত। তবে এর অর্ধেক ৩৫ হাজার হোল্ডিংয়ে বৈধ্য সংযোগ রয়েছে ওয়াসার। অন্যগুলো অবৈধ সংযোগ। পানির অপচয় বন্ধে মিটার বসানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্নকরণসহ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে ওয়াসা। ভূগর্ভস্থ পানি নির্ভরতা কমাতে ভূ-উপরিস্থ পানি কেন্দ্রিক বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে ওয়াসা। আরএআর/পিআর