নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। আর মাত্র তিনদিন বাকি। পোস্টারে ছেয়ে গেছে প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ শহর।মেয়র আর কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাঁটানো হাজারো পোস্টারে পুরনো এই শহরের শ্রী হারিয়েছে বেশ কয়েকদিন আগেই। গোটা শহরই ঢাকা পড়েছে সাদা-কালো পোস্টারে। প্রার্থীদের পক্ষে ভেসে আসছে মাইকের শব্দ। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইক লাগানো হয়েছে প্রচারের জন্য। রিকশা-ভ্যানেও চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন নগরের আনাচে-কানাচে। প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইতে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। দল আর উন্নয়নের কীর্তনে মুখর এসব নেতা। এত কিছুর পরও নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচনী হাওয়া গায়ে লাগায়নি সাধারণ ভোটাররা। সময়ের ব্যবধানে নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচনী উত্তেজনা বইলেও সাধারণ ভোটাররা এখনও নীরব। দেখছেন, শুনছেন কিন্তু সাড়া দিচ্ছেন না। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় রাজনীতি, দ্বিধা আর শঙ্কার কারণেই নীরব দর্শকের ভূমিকায় নাসিকের ভোটাররা। নীরবে থেকেই মাঠ পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। কোথাকার পানি কোথায় যায়, তা শেষ অবধি দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান বেশ কয়েকজন ভোটার। এদিকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েও অনেকে নীরব রয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই নির্বাচনগুলোয় হতাহতের ঘটনা ও ভোটের ফলাফল আমলে নিয়েই অনেকে উৎসাহ হারিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মোড়ে দাঁড়িয়ে কথা হয় রিকশাচালক আফসারের সঙ্গে। আফসারের বাড়ি ময়মনসিংহে। প্রায় দশ বছর হয় নারায়ণগঞ্জ শহরে রিকশা চালান তিনি। এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার। তিনি বলেন, গতবার প্রথম মেয়র নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম। এবার আর তেমন উৎসাহ নেই। ভোট এখন নেতাদের দখলে। আমাদের আর গুরুত্ব কি? শহরের মিনাবাজারে ঝালমুড়ি বিক্রি করছিলেন নওশাদ আলী। তিনি বলেন, ‘ভোট তো আর আমাগো নাগালে নাই। চলছে টাকার খেলা। আমরা তো রাজনীতি বুঝি না। টাকাও ধরতে পারি না। আবার কেন্দ্রে গেলেই ভোট দিতে পারুম, তারও তো ভরসা নাই। ঝালমুড়ি বেইচা খাই। এটাই ভালো। রাজনীতি বেশি বুঝলে পেটে ভাত যাবো না।’ তবে সাধারণের মনে নির্বাচন নিয়ে যে একেবারেই উত্তেজনা নেই, তা মানতে নারাজ জুতা ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক। বলেন, সাধারণের ভোটেই তো নেতাগো পোদ্দারি। ভোটের ফলাফল তো নির্ধারণ করে সাধারণ ভোটাররাই। আগের মতো তো মিছিল-মিটিং নেই। তাই সাধারণদের উত্তেজনাও তেমন চোখে পড়ে না। এএসএস/এএইচ/পিআর