নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর জসিম উদ্দিন চৌধুরী (৩৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের পরিবারের দাবি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চর সৈয়দপুর এলাকার এক সময়ের আলোচিত ডাকাত সর্দার দৌলত মেম্বারের মালিকানাধীন সম্রাট ট্রান্সপোর্ট নামের প্রতিষ্ঠানের ২য় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষুব্ধ লোকজন দৌলত মেম্বারের বাড়িসহ আশে পাশের কয়েকটি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে। নিহত জসিম সদর উপজেলার গোগনগর এলাকার আহম্মদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় অবস্থিত মেট্রো সিমেন্ট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দৌলত মেম্বারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে তারা মিছিল নিয়ে দৌলত মেম্বারের বাড়িতে হানা দিয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া সড়কে ৭-৮টি যানবাহন ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত দৌলত মিয়া জেলা কৃষকলীগের সহসভাপতি। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম শেখ নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, জসিম উদ্দিন একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ৫ দিন আগে জসিম তার কর্মস্থল থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার কথা থাকলেও আর বাসায় ফিরেনি। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে জসিমের ব্যবহৃত মোবাইলটি চর সৈয়দপুর এলাকার দৌলত মেম্বারের অফিসের কর্মচারী বাকপ্রতিবন্ধীর কাছ থেকে পেয়ে তার তথ্যমতে দৌলত মেম্বারের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সম্রাট ট্রান্সপোর্টের ২য় তলার একটি কক্ষ থেকে জসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসাপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরো জানান, জসিমের সঙ্গে দৌলত মেম্বারের যেকোনো বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গুম করার চেষ্টা করতে চেয়েছিল। উদ্ধারের সংবাদের পর থেকে দৌলত মেম্বারসহ পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। মো: শাহাদাত হোসেন/এফএ/আরআইপি