দেশজুড়ে

সিমেন্ট ছাড়া ঢালাই, ধসে পড়লো স্কুলের সিঁড়ি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের নওপাড়া-নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ঢালাইয়ের ১৫ দিনের মাথায় বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি ভেঙে পড়েছে। এতে মোক্তার হোসেন (২৭) নামের এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত মোক্তার হোসেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। আহত মোক্তার হোসেন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।শনিবার দুপুর পৌনে ২টার সময় আকস্মিকভাবে সিঁড়িটি ভেঙে পড়ে। এ সময় বিল্ডিংয়ের দোতলায় সাটারিং কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মোক্তার হোসেন আহত হন।খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে, উত্তেজিত জনতা তার ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার মেসার্স তামান্না ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজের টেন্ডার নেয়। এ প্রতিষ্ঠানের নামে গাংনীর মোনায়েম হোসেন মোলাক লেসে কাজটি করছেন।মোলায়েম হোসেন মোলাক জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তামান্না ট্রেডার্সের কাছ থেকে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক পাওয়ার অব এর্টনি করে নিয়েছেন।স্থানীয়রা জানায়, নির্মাণ কাজ শুরু থেকে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করে আসছেন। নিম্নমানের কাজের বিরোধীতা করায়, ঠিকাদার মোনায়েম হোসেন মোলাক তাদের বিভিন্ন ভাবে মামলা দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু হওয়ার সময় সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক কয়েকদিন এসেছিলেন। প্রথম দিকে কাজের ভুল ধরায় ঠিকাদার প্রকাশ্যেই মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাকে (ম্যানেজ) নিয়ন্ত্রণ করে। বিল্ডিংয়ের কাজের তদারকিতে থাকা সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে, সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনটি কেটে দেন।শনিবার ঘটনাস্থলে মোনায়েম হোসেন মোলাক গেলে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়েন তিনি। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঠিকাদার মোনায়েম হোসেন মোলাক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক কোহিনুর খাতুন, রাবেয়া খাতুন ও আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, ঘরের ছাদ ধসে যাওয়ার কারণে তারা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা ছেলে-মেয়েদের এই স্কুলে রাখবেন না বলে জানান।নবীনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার শেলী বলেন, ২০১৬ ইং সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এ বিল্ডিংয়ের কাজের মেয়াদ ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ না করে আরও ৬ মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ের নিয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন।এ বিষয়ে গাংনী নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উজ-জামান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তদন্তসাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনা তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিল দেয়া হবে না। কাজের মান নিম্ন হলে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।এএম/জেআইএম