শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন খন্দকারের ছেলে মো. আবু তালেব খন্দকার। ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। জীবন বাজি রেখে ভেদরগঞ্জ অঞ্চলে যুদ্ধকালীন কমান্ডার এসএম কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ৭১ এর আগস্ট থেকে পাক বাহিনীকে সারেন্ডার করানোর পূর্ব পর্যন্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি আবু তালেব খন্দকারকে একটি পরিচয়পত্র প্রদান করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে বার বার আবেদন করেও এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হতে পারেননি তিনি। ৮ মেয়ের বাবা মো. আবু তালেব খন্দকারের বয়স হওয়ায় এখন আর কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে পারেন না। তাই সংসারের চাকা ঘোরাতে কাঁধে নিয়েছেন ভিক্ষার ঝুলি। ভিক্ষা করেই ৬৫ বছরের মানুষটি তার দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ৩ মেয়েকে লেখা পড়ার খরচ চালাচ্ছেন। বয়স হলেও টাকার অভাবে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না। ১৯৭১ সালে থেকে ২০১৬। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। পাল্টে গেছে বাংলার চিত্র। কিন্তু পাল্টায়নি আবু তালেব খন্দকারের ভাগ্য।আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেও এখন পর্যন্ত মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ। পাইনি কোনো ভাতা বা সরকারি সাহায্য। তাই ভিক্ষার ঝুলি আমার একমাত্র সম্বল।তিনি আরো বলেন, যখন শরীরে শক্তি ছিল তখন কৃষিকাজ করে সংসার চালাতাম। এখন আর শরীরে শক্তি নাই তাই কেউ কাজেও নেয় না। সংসার চালাতেই ভিক্ষার ঝুলি নিয়েছি। আবু তালেব খন্দকার জানান, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এলাকায় ভিক্ষা করতে লজ্জা লাগে। মান সম্মানের ভয়ে অনেক দূরে গিয়ে ভিক্ষা করেন। নড়িয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার মজিবুর রহমান খান বলেন, আবু তালেব খন্দকার ৭১ এর আগস্টে পন্ডিতসার চাকলাদার বাড়ি ক্যাম্পে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত করার ক্যাটাগরিতে না পড়ায় তাকে তালিকভূক্ত করা হয়নি।জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সাত্তার খান বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করবে তা হতে পারে না। আর এ তথ্য আমার জানা নেই। নড়িয়া উপজেলা কমান্ডার আব্দুল হাছিন খান ও যুদ্ধকালিন কমান্ডার এসএম কামাল উদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি। ছগির হোসেন/এফএ/পিআর