দেশজুড়ে

ওসির বিরুদ্ধে ঘের লুটের অভিযোগ

খুলনার ডিআইজি ও সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। এ জন্য সংবাদ সম্মেলন করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এসেছি। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের বাজার গ্রামের নাজিমউদ্দিন শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এসব অভিযোগ তোলেন।তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমার ঘের লুট হয়েছে। আমার ঘের থেকে লুট হওয়া মাছের টাকা ফেরত চায়।সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে তার ভাই সোহেলউদ্দিন ও দুই ভাতিজা তৌহিদ ও সাঈদের  ৫১ শতক জমি বন্দোবস্ত নিয়ে মাছ চাষ করতেন নাজমুল ইসলাম বাবু। কিন্তু ঠিকমতো বন্দোবস্তের টাকা না দেয়ায় বাবুর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওই জমি তারা বিক্রি করে দেন নাজিমউদ্দিনের তিন ছেলে কুতুবউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও রহিমউদ্দিনের কাছে। নাজিমউদ্দিন ছেলেদের নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে সেখানে মাছের ঘের করেছেন। সেখানে মাছের ঘের ছাড়াও একটি ইটভাটা রয়েছে। নাজমুল এ ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিলে আদালত যে যার অবস্থানে থাকবেন মর্মে নির্দেশ দেয়।নাজিমউদ্দিন আরও বলেন, কালিগঞ্জ থানা পুলিশ নাজমুল হোসেন বাবুর পক্ষ নিয়েছে। অথচ আমার পক্ষে থাকার কথা বলে ওসি তিন দফায় ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এরপর থানায় ডেকে নিয়ে ওসি বলেছেন, নাজমুল ইসলাম বাবু ঘেরের মাছ ধরবেন। বাধা দিলে ছেলে কুতুবউদ্দিনকে চুরি মামলায় জেলে পাঠাবো।পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে নাজমুল ও ফিরোজ কবির কাজলের নেতৃত্বে রোকন, কচি, বাবলু ও মহিউদ্দিনসহ ২০-৩০ জন ঘেরের সব মাছ প্রকাশ্যে লুট করে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত থেকে তাদেরকে সহায়তা করেন কালিগঞ্জ থানা পুলিশের সহকারী উপ-রিদর্শক বাবুল হোসেন। ওসি সেখানে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন।এ বিষয়ে কালিগজ্ঞ থানা পুলিশের এএসআই বাবুল হোসেন বলেন, আমি সকালে ওসির ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, যেন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না হয়। সেখানে যাওয়ার পর দেখেছি উভয় পক্ষ একমত হয়ে মাছ ধরছেন। এরপর আমি ফোর্স নিয়ে ফিরে আসি। নাজিমুদ্দীনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লস্কর জায়েদুল হক বলেন, নাজমুলের জমির অনেকটাই দখল করে রেখেছেন নাজিমউদ্দিন। নাজিমউদ্দিকে থানায় ডেকে শান্তি রক্ষার কথা বলেছিলাম। পরদিন উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে ঘের থেকে মাছ ধরেছেন। এতে আমার দোষ কোথায়?। আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি