দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র, সহকারী প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে কাউন্সিলররা। রোবাবর দিনাজপুর পৌরসভার মাসিক সভায় কতিপয় কাউন্সিলরের হট্টগোলে মাসিক সভা পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর এই তালা লাগানো হয়।এর আগে অবস্থা বেগতিক দেখে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আহমেদুজ্জামান ডাবলু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক মাসিক সভা মুলতবি ঘোষণা করেন। সোমবার দুপুরেও ওই কক্ষগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।গত রোববার বিগত মাসিক সভার সিদ্ধান্ত শোনার পর পরই ১২নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল আলম রমজান সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এ সময় দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী প্রকৌশলী মো. বদিউজ্জামান ফারুকী, প্রধান হিসাব রক্ষণ অফিসার জাহিদুল হক, সহকারী হিসাব রক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাকের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় টেবিল চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন পৌরবাসী যুবককে নিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী প্রকৌশলী মো. বদিউজ্জামান ফারুকীর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এর পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌরসভা চত্বরে মেয়র ও সহকারী প্রকৌশলীসহ দুই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল আলম রমজান, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম লাইজু। আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম সহকারী প্রকৌশলী মো. বদিউজ্জামান ফারুকী জুয়েলকে নিয়ে পৌরসভাকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। মেয়র গাড়ির তেল, বাড়ির প্ল্যান, ইজি বাইকের লাইসেন্স, দরপত্র ছাড়াই লাখ লাখ টাকার কাজে অনুমোদন, বাড়ির ট্যাক্সের অ্যাসেসমেন্ট, ঠিকাদারদের কাছ থেকে পিসি গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। সহকারী প্রকৌশলী মো. বদিউজ্জামান ফারুকীকে দিয়ে ১৫টি বাড়ির প্ল্যান পাশ করিয়ে নজিরবিহীন দুর্নীতি করেছেন। এ দিকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও মাসিক সভার সভাপতি আহমেদুজ্জামান ডাবলু তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, দুর্নীতি করা হলে তা বিচারের জন্য নিয়ম রয়েছে। তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আইন রয়েছে। মাসিক সভায় হট্টগোল সৃষ্টি করে দুর্নীতির বিচারের আশা করার কোনো সুযোগ নেই। পৌর কাউন্সিলর আবু তৈয়ব আলী দুলাল ও একেএম মাসুদুর ইসলাম মাসুদ বলেন, দুর্নীতি যেই করুক বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে হঠাৎ করে এই ঘটনা সৃষ্টির পেছনে আমরা জড়িত নই। তবে আমরা পরিস্থিতি দেখেছি মাত্র। সহকারী প্রকৌশলী বদিউজ্জামান ফারুকী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে থাকার সময় আমি দায়িত্ব পালন করে থাকি। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি ঘটনা শুনেছি। ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। সোমবাব বিকেলে দিনাজপুরে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত জানাতে পারবো।এদিকে, সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে পৌরসভায় গিয়ে মেয়র, সহকারী প্রকৌশলী ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।এমদাদুল হক মিলন/আরএআর/এমএস