আগামী শনিবার রাজশাহীতে কর্মী সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে ওই দিন সকাল ১০টায় বিভাগীয় পর্যায়ে এ সমাবেশ শুরু হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরই মধ্যে সমাবেশ আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছে রাজশাহী আওয়ামী লীগ।এদিকে, এই আয়োজন ঘিরে চাঙা হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটগুলো বর্ধিত সভা করে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে। জেলা ও নগর আওয়ামী লীগও প্রস্তুত এই আয়োজন সফল করতে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, এরই মধ্যে জেলা ও নগরের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। বেড়েছে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ। বিভেদ ভুলে এখন এক কাতারে নেতা-কর্মীরা। সব মিলিয়ে এ আয়োজনে দারুন উজ্জীবিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সম্মেলন থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দিক নিদের্শনা পাবেন এমটিই প্রত্যাশা তাদের।রাজশাহী আওয়ামী লীগ জানায়, দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এতে উপস্থিত থাকার কথা দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের। সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সংসদ সদস্যদেরও অংশ নেয়ার কথা।রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এই সমাবেশ সফল করতে জেলার ৯ উপজেলা এবং চৌদ্দ পৌর কমিটি এরই মধ্যে সভা করে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। এর আগে এ নিয়ে উপজেলা ও পৌর কমিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা করেছে। দলের সধারণ সম্পাদকের এ সমাবেশ আয়োজনে নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত।রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, তারাও নগরীর সাংগঠনিক ৫ থানা এবং ৩৭ ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে বর্ধিত সভা করেছে। এ আয়োজন সফল করতে নগরের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিটি ইউনিট এখন চাঙা। সমাবেশে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি থাকবে বলে আশা তার।কর্মী সমাবেশ আয়োজনের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি জানান, কেবল কর্মী সমাবেশই নয়, এ আয়োজন আওয়ামী পরিবারের মিলন মেলায় রূপ নেবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এখন চলছে মঞ্চ প্রস্তুতসহ শেষ মুহূর্তের কাজ। এ আয়োজন সফল করতে নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান লিটন।এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে গিয়ে দেখা গেছে মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে বিরামহীন। বুধবার সকাল থেকে ডেকোরেটরের কর্মীরা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠ প্রস্তুত করছে রাজশাহীর ফ্রেন্ডস ডেকোরেটর। ডেকোরেটর কর্মী আব্দুর রাজ্জাক জানান, বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে মাঠ প্রস্তুত কাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কেবল শামিয়ানা টাঙানোর কাঠামো তৈরির কাজ করেছেন। শুক্রবার রাতের মধ্যেই মঞ্চ প্রস্তুতসহ পুরো কাজ শেষ করতে চান তারা। সবমিলিয়ে ২০জন কর্মী এ কাজে নিয়োজিত। এদিকে, কর্মী সমাবেশ ঘীরে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টেও চলছে তোরণ নির্মাণকাজ। শুক্রবারের মধ্যে এগুলোর নির্মাণ শেষ হবার কথা। চলছে ব্যানার পোস্টার সাঁটানো। এরই মধ্যে কেবল টিভি ও স্থানীয় খবরের কাগজে দেয়া হয়েছে বিজ্ঞাপন। চলছে সব ধরণের প্রচার প্রচারণাও। এ আয়োজনে পুরো নগরীতে উৎসবের নগরীতে সাজাতে চাই আওয়ামী লীগ।ফেরদৌস সিদ্দিকী/এএম/জেআইএম