দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টা। সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ব্রাজিলে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. মিজারুল কায়েসের মরদেহবাহী আলিফ মেডিকেল সার্ভিসের লাশবাহি ফ্রিজিং গাড়িটি (অ্যাম্বুলেন্স) শহীদ মিনার ত্যাগ করছিলো। এ সময় উপস্থিত সবাই শেষবারের মতো লাশবাহী গাড়িটির দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন।
মিজারুল কায়েসের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অন্যান্যদের সেখানে উপস্থিত হন দেশের অন্যতম সেরা জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ। তাকে দেখতে পেয়ে মধ্যবয়সী এক ভক্ত এগিয়ে এসে বলে উঠেন ‘স্যার, আপনার লগে একটা ফটো তুলি’। শোকাবহ পরিবেশে এহেন আবদার শুনে লোকটির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন জাদু শিল্পী জুয়েল আইচ।
জুয়েল আইচ ওই ব্যক্তিকে মুখে কিছু না বলে শুনতে পাননি এমন ভাব করে দুইপা সামনে এগিয়ে যান। নাট্যাভিনেতা খায়রুল আলম সবুজকে কোনো এক রোগী দেখতে ল্যাব এইড হাসপাতালে তার সঙ্গে যাবে কিনা তা জিজ্ঞাসা করেন।
জুয়েল আইচ এগিয়ে গেলেও তার ভক্ত ভদ্রলোক নাছোড়বান্দা। নিজেই একটু সামনে এগিয়ে দাঁড়িয়ে জুয়েল আইচকে ব্যাক ফ্রেমে রেখে সেলফি তুলে নেন। এ দৃশ্য দেখে জুয়েল আইচের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলে উঠেন, একেই বলে খ্যাতির বিড়ম্বনা। ভক্তরা সময় ও পরিবেশও বুঝতে চায় না।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে শুধু জুয়েল আইচ একা নন, শিল্পকলা একাডেমির ডিজি লিয়াকত আলী লাকি, সম্মিলিত সাস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুসসহ অন্যান্য অনেককেই পড়তে দেখা যায়। মরদেহ চলে যাওয়ার পর তাদের অনেকেই শহীদ মিনারকে পিছনে রেখে নিজেরা নিজেরা ও ভক্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ছবি তুলতে থাকেন।
এমইউ/এআরএস/জেআইএম