দেশজুড়ে

কক্সবাজারে পানিতে ডুবে নয়জনের মৃত্যু

কক্সবাজারে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে পর্যটক ও শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৫ জুন দুপুর থেকে ২৭ জুন বিকেল পর্যন্ত সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, কক্সবাজার সদরের ঈদগা, রামু, উখিয়া ও টেকনাফে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করা হয়েছে চার পর্যটকসহ তিন শিশুকে।

পুলিশ জানায়, রোববার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওর ডুলাফকির মাজারের পুকুরে মাছ ধরার বাঁশের ভেলায় চড়ে খেলতে গিয়ে একই পারিবারের তিনজনসহ পাঁচ শিশু ডুবে যায়। দু’জন কূলে ফিরে এলেও তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। দু’ঘণ্টা চেষ্টার পর জাল ফেলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলো- কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ডুলাফকির মাজার এলাকার আব্দুস ছমদের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৩) ও তুহিন (৮) এবং একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে তাজমীর আহমেদ মনি (১১)। মনি অপর দুই সহোদরের ফুফাতো ভাই।

ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, ঈদের দিন সকাল ১১টায় রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ির উমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় খেলতে গিয়ে আবদুল্লাহ (১০) নামের এক শিশু বাঁকখালী নদীতে পড়ে যায়। ২৭ জুন বেলা ১১টায় কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাকঁখালী নদীর ওই এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সে দক্ষিণ মিঠাছড়ির উমখালী এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সেফায়েত হোসেন সাগর বলেন, মরদেহটি উমখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাঁকখালী নদী থেকে উদ্ধার করে রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপরদিকে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে সুদীপ্ত দে (১৮) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়। ২৭ জুন সকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে গোসল করতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যাওয়া সুদীপ্ত রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার শীতল চন্দ্র দের ছেলে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি রায়হান কাজেমি জানান, বন্ধুদের সঙ্গে সাগরে গোসল করতে নেমে ভেসে যায় ওই কিশোর। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

উখিয়ায় রতপালংয়ে পুকুরে ডুবে ইমাম চৌধুরী (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে। ২৭ জুন বেলা ১টায় ইউনিয়নের ভালুকিয়া পালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ইমাম চৌধুরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসেম চৌধুরীর নাতনী ও সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আবু তাহের চৌধুরীর বড় মেয়ে।

উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন জানান, পুকুরে পড়ে ডুবে যাওয়া শিশুটিকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজারের টেকনাফে ঈদের আনন্দে নৌকায় ভ্রমণ করতে নেমে নবনির্মিত ব্রিজে ধাক্কা লেগে নৌকাডুবির ঘটনায় টেকনাফ পৌরসভাস্থ ইসলামাবাদের মনু মিয়ার ছেলে মো. আমিন (৯), মৌলভী পাড়ার মীর আহমদের ছেলে আনোয়ার সাদেক (১৪) ও নাজিরপাড়ার হামিদ হোসেনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (১৫) নিখোঁজ হয়।

তাদের মাঝে আমিনের মরদেহ বুধবার সকালে পাওয়া গেলেও বাকি দুজনের সন্ধান মেলেনি।

২৭ জুন বিকেল ৪টার দিকে টেকনাফ পৌর এলাকার নবনির্মিত জেটিঘাটে ১৫-২০ জনের একদল যুবক বড় একটি নৌকা নিয়ে নাফ নদীতে ভ্রমণে বের হয়। ফেরার সময় নৌকাটি জেটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় বসা সাতজন নদীতে পড়ে যায়। এ সময় উপস্থিত জেলে ও স্থানীয়দের সহায়তায় সইফুল ইসলামসহ চারজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ থানার ওসি মাইন উদ্দিন খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে নাফ নদী থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এমআরএম/পিআর