গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে সাভার পৌর এলাকার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ডুবে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ ও অফিস রুমে পানি ঢুকে একাকার।
বুধবার সকালে হাঁটুপানি ভেঙে স্কুলে আসতে দেখা গেছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের । দুপুরের দিকে ছুটির পরও তাদের পানিতে ভিজেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে। টানা কয়েকদিন ধরেই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না পানি নিষ্কাশনে। শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় দুশ্চিতায় পড়েছেন অভিভাবকরাও।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা কয়েকদিনের বর্ষণে মূলত সাভার পৌরসভার ব্যাক কলোনি, ব্যাক টাউন, তালবাগ ও রেডিও কলোনি এলাকার রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। সেই সঙ্গে এই এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে ডুবে গেছে। তার মধ্যে ব্যাংক কলোনি এলাকার নোটাবেনী ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডার্ন ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তাহজীফুল কোরআন মাদরাসা, অ্যাসেড স্কুল, শাহীন ক্যাডেট একাডেমিসহ অন্তত ১৫টি স্কুলে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশতে বন্ধ হয়ে পড়েছে ক্লাস-পরীক্ষা। কিছু কিছুতে ক্লাস-পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।
মডার্ন ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মর্নিং শিফটের প্রিন্সিপাল জীবন মাহমুদ বাদল বলেন, পানির কারণে শিক্ষার্থীর যাতায়াতের পাশাপাশি স্কুলে ক্লাস করতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে উপস্থিতির হার কমে গেছে।
নোটাবেনী ইংলিশ স্কুলে প্রধান শিক্ষকা মনিরা বেগম বলেন, আমাদের স্কুলের দুইটি শাখা ব্যাংক কলোনি এলাকায় অবস্থিত। পানিতে ডুবে যাওয়ায় চারদিন ধরে একটি শাখা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্য শাখায়ও উপস্থিতির হার খুবই কম।
এদিকে জলাবদ্ধতার জন্য টানা ভারি বর্ষণকে দায়ী করেছেন সাভার পৌরসভার মেয়র আলহাজ আব্দুল গনি। তিনি জানান, পৌরসভার পানি নিষ্কাশন ক্যাপাসিটির চেয়ে কয়েকগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ জন্য সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তবে পৌরসভার সব টিম পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে। যেসব জায়গায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।
আল-মামুন/আরএআর/এমএস