দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, খানসামাসহ ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আত্রাই নদীর উপর একটি সেতু। যা ওই এলাকার মানুষের মধ্যে সেতু বন্ধনের দ্বার উন্মোচন করবে। কিন্তু আজও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় বর্ষায় নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোই এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের ভরসা।
বীরগঞ্জ উপজলোর শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দক্ষিণে নীলফামারীর ১৭ কিলোমিটার এবং পশ্চিমে ঠাকুরগাঁওয়ের ২২ কিলোমিটার এলাকা। এর মাাঝে আত্রাই নদীতে সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকা দিয়ে পারাপার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসব এলাকার বাসিন্দাদের।
বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে প্রবল স্রোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। ফলে প্রায় নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। অথচ নদীটিতে একটি সেতু নির্মাণ হলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা, ঠাকুরগাঁও গড়েয়া হাট, নীলফামারী সদর উপজলোর নীলসাগর দীঘি, ভবানীগঞ্জ হাটের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সহজ হবে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কর্মস্থানের।
স্থানীয় বলদিয়া পাড়া গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি সপ্তাহে দুইদিন ভবানীগঞ্জ হাট (কাপড় বিক্রি) করি। ব্যবসা শেষে রাতে ফেরার সময় সমস্যায় পড়তে হয়। একটা সেতু হলে আমাদের এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হয়।
ভবানীগঞ্জের আলু ব্যবসায়ী রহিমুল ইসলাম বলেন, রোব ও বুধবার গড়েয়া হাট করি। তবে বর্ষার সময় রাতে ঘাটে নৌকা পাওয়া কষ্টকর। অনেক সময় বিপদেও পড়তে হয়।
ঝাড়বাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসমিন আল বারী বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ঝাড়বাড়ী হয়ে নদীর জয়গঞ্জ ঘাট দিয়ে নীলফামারী জেলার সঙ্গে বৃটিশ আমল থেকেই যোগাযোগ ছিল। এ কারণেই উভয় দিকের রাস্তাটিও অনেক প্রশস্ত। এ এলাকায় বর্তমানে নীলসাগর নামে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। তবে সেতু নির্মাণ হলে নদীর দু’পারের হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে।
খানসামার আলোকঝাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আ স ম আতাউর রহমান বলেন, জয়গঞ্জ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের বড় হাটগুলোর পণ্যসামগ্রী সহজে অন্যত্র যেতে পারবে। ফলে পরিবর্তন ঘটবে অত্র এলাকার মানুষের ভাগ্য।
এমদাদুল হক মিলন/আরএস/এমএস