টাকার অভাবে যখন বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যুর প্রহর গুনছিল তার পরিবার। তখনই বিষয়টি দৃষ্টিতে আসে জাগো নিউজের। “সাতক্ষীরার আরও একটি শিশু বিরল রোগে আক্রান্ত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর মিডিয়া পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয় শিশু ইব্রাহিমকে নিয়ে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু ইব্রাহিমকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। তবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামসুর রহমান জানিয়ে দেন শিশুটির চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। শিশুটি চিরোনিক গ্রানুলোমেটাস রোগে আক্রান্ত।
তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দশ হাজার টাকা সহায়তা দেন শিশু ইব্রাহিমের চিকিৎসার জন্য। পরবর্তীতে তারই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিভিও পেট্রোক্যামিক্যাল রিফাইনারী লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামসুল আলামীন শিশুটির চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পাঠান।
পরবর্তীতে এএসপি মেরিনা আক্তারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিক্ষক সমিতির নেতারা ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন শিশুটির চিকিৎসা সেবায়। সেসব সহায়তার টাকায় গত ৩১ জুলাই শিশু ইব্রাহিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের ৬২২ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আজ শনিবার সকালে শিশু ইব্রাহিমের প্রথম ধাপের অপারেশন সফল হয়েছে। তার অণ্ডকোষসহ আশেপাশে যে পচন ধরেছিলো সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
ইব্রাহিমের মামা মিনারুল ইসলাম জাগো নিউজকে এসব নিশ্চিত করে জানান, ডাক্তার জানিয়েছেন প্রথম ধাপের অপারেশন সফল হয়েছে। পরবর্তীতে বায়োপসি করা হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপের অপারেশন করা হবে। বর্তমানে শিশু ইব্রাহিম সুস্থ রয়েছে। শরীরে দীর্ঘ ৬ মাস থাকা জ্বরটা এখন নেই। জ্বালা যন্ত্রণাও কমে গেছে।
শিশু ইব্রাহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের প্রধান ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ইব্রাহিমের মা হাসিনার খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, এএসপি মেরিনা আপা ও জাগো নিউজকে ধন্যবাদ জানায়। আপানারা সকলে দোয়া করবেন আমার বাচ্চাটি যেন সুস্থ হয়ে ওঠে।
শিশু ইব্রাহিমের অপরাশেন সফল হয়েছে শুনে সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার বলেন, এটা আমাদের দায়িত্ব। একটি শিশু চোঁখের সামনে এভাবে মরা যেতে পারে না। আমি চেষ্টা করেছি আমার সাধ্যমত। জানিনা কতটুকু পেরেছি তবে যেদিন ইব্রাহিম সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে সেদিনই সব থেকে বেশি খুশি হবো।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/জেআইএম