কুষ্টিয়ায় বিসিআইসির সার ডিলারদের বিরুদ্ধে ইউরিয়া সার নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও কৃষরারা। তারা বলছেন, কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ১৪ টাকা কেজির ইউরিয়া বিক্রি করা হচ্ছে ২০ টাকায়। জেলার বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন বিএফএ’র কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে সারের এ চাহিদা সৃষ্টি করেছেন।
জানা গেছে, ভরা মৌসুমেও চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে দিশেহারা কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার হাজারও কৃষক। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সঙ্কট বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীদের বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী বিসিআইসির ডিলাররা সার দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, বিসিআইসির ডিলাররা বলছেন, বরাদ্দ থাকলেও সার সরবরাবহ কম থাকায় কিছুটা চাহিদা বেড়েছে।
এদিকে, এ সুযোগ নিয়ে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করছেন। মাঠ পর্যায়ে প্রতিকেজি ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ ইউরিয়া সারের সরকারি ডিলার মূল্য ১৪ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬ টাকা কেজি।
কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে বিসিআইসির সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশন বিএফএ’র সঙ্গে জেলার কৃষি সেক্টরের কর্তাদের যোগসাজসে এ অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজার দাবি করেন, সারের কোনো সঙ্কট নেই। বিসিআইসির ডিলাররা সরকইর মূল্যে (১৬ টাকা) সার বিক্রি করছেন। মাঠে আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তবে বাফার গুদাম থেকে সার সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরাও সার পাচ্ছে কম। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন সবাইকে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া খামার বাড়ির উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) খুরশীদ আলম বলেন, বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসে নাই। কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সার সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় কৃষক সার পাচ্ছে তবে ধীর গতিতে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।
কুষ্টিয়ার বাফার গোডাউনের ম্যানেজার নরুল আলম, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলায় আগস্ট মাসের চাহিদা আছে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে সাড়ে তিন হাজার টনের মত সার পাওয়া গেছে। বন্যার কারণে সার সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে খুচরা ডিলাররা সময় মত সার পাচ্ছে না। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক সব হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগস্ট মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার টন সার জেলায় কৃষকরা সঠিকভাবে পেলে কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হত না। জেলার বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে কুষ্টিয়ার নামে বরাদ্দকৃত সার জেলার বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ভাদালিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ ধরে কোনো সার পাচ্ছেন না। কৃষকরা সার নিতে আসলেও তারা দিতে পারছেন না। বিষয়টি নেতাদের জানিয়েছি, তারা বলছেন, সামাধান হয়ে যাবে।
একই অভিযোগ করেন সার ব্যবসায়ী সাইদুল ও কামরুল জানান। তারা বলেন, এখন সারের চাহিদা বেশি। কিন্তু কৃষকদের সার দিতে পারছি না। মূল ডিলাররা সার দিচ্ছেন না। সার না থাকলে কৃষকদের ক্ষতি হবে।
সদর উপজেলার আব্দালপুর গ্রামের কৃষক রুহুল, কামালসহ অন্যরা জানান আমন ধানের চারা রোপন করেছেন বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে। এখন সার প্রয়োজন। তবে চাহিদার তুলনায় সার মিলছে না। পাওয়া গেলেও কেজিতে কয়েক টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া এলাকার কৃষক লাল মিয়া জানান, ডিলাররা সার সঙ্কট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। সরকারের এটা দেখা উচিত। সদর উপজেলায় এ বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৮০৩ হেক্টর এবং জেলায় ৮২ হাজার ৮৬৭ হেক্টর।
বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ডিলার আব্দুল লতিফ দীঘা বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সার আসছে না। এ কারণে আমরাও সার উত্তোলন করতে পারছি না। সার না পাওয়ায় খুচরা ডিলারদেরও চাহিদা অনুযায়ী দিতে পারছি না। এতে সাময়িক সঙ্কট হয়েছে। তবে অচিরইে এ সঙ্কট নিরসন হবে বলে আশা করি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান জানান, সরকার নির্ধারিত রেটের বাইরে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি কৃষকদের জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আল-মামুন সাগর/আরএস/আরআইপি