দেশজুড়ে

সাইদকে ঢাকায় আনতে পারছে না তার পরিবার

নওগাঁর মান্দা উপজেলার মৌনম ইউনিয়নের ভদ্রসেনা গ্রামের দুই বছরের শিশু আবু সাইদ হাইড্রোসেফালাস রোগে আক্রান্ত। জন্মের পর থেকে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে তার মাথা।

পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় অর্থের অভাবে বন্ধ শিশুটির চিকিৎসা। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে সাইদের পরিবার। দরিদ্র কৃষক ও ভ্যানচালক সাইদুল ইসলাম ও মা সায়েরা বিবির তৃতীয় সন্তান আবু সাইদ।

জানা যায়, গত দুই বছর আগে শিশু আবু সাইদ স্বাভাবিক মাথা ও কোমরে টিউমার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের আটদিন পর রাজশাহী পপুলার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন করানো হয় সাইদের। এর এক মাস পর থেকে সাইদের মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে। ছেলের চিকিৎসার জন্য সেখানেই প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়।

সেখানে ভালো না হওয়ায় চার মাস পর অবশেষে সাইদকে বগুড়ায় নিয়ে হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে হোমিও ডাক্তার প্রায় ৫ হাজার টাকার ওষুধ দেন। চার মাসেও ছেলের রোগের কোনো আরোগ্য না হওয়ায় টাকার অভাবে আর ডাক্তার দেখাতে পারেনি সাইদের পরিবার।

দরিদ্র এই পরিবারটির বাড়িভিটে ছাড়া কিছু নেই। বড় ছেলে সাজু (১৮) শারীরিক প্রতিবন্ধী। বিছানা থেকে উঠতে পারে না। মেয়ে সাদিয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

সাইদের মা সায়েরা বিবি বলেন, অর্থের অভাবে ছেলেকে আর চিকিৎসা করাতে পারিনি। হোমিও চিকিৎসা করানোর পর ভালো না হওয়ায় আর ডাক্তার দেখাতে পারিনি। তবে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যাবে এমন কথা বলেছিলেন ডাক্তাররা। ঢাকায় যাওয়ার মতো তেমন সাধ্য আমাদের নেই। ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

নওগাঁর সিভিল সার্জন রওশন আরা খানম বলেন, এটি একটি জন্মগত সমস্যা। যা জন্মের পর থেকে মাথার মধ্যে পানি জমে থাকে। প্রথমত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন তিনি। সেখান থেকে রেফার্ড করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। যেহেতু এ রোগের চিকিৎসা নওগাঁতে নেই। সেহেতু শিশুটিকে আমরা রেফার্ড করে ঢাকায় একটি ভালো হাসপাতালে পাঠাব। আর শিশুটি যেন ভালো চিকিৎসা ও সেবা পায় সে ব্যাপারে আমি সেখানে কথা বলে দেব। এতটুকু ওই শিশুটির জন্য করতে পারব।

সাইদের উন্নত চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার মা-বাবা। পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর : ০১৭৯৫-০২৯৪৫৩।

আব্বাস আলী/এমএএস/জেআইএম