জাতীয়

চাকরি পাচ্ছেন তৌফা-তহুরার বাবা

চাকরি পাচ্ছেন তৌফা-তহুরার বাবা রাজু মিয়া। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া তৌফা-তহুরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান।

বিদায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা চায় তারা (তৌফা-তহুরা) ভালো থাকুক। মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসায় তারা বড় হয়ে উঠুক।

তিনি বলেন, এই কৃষক পরিবার এখন কোথায় যাবে? আমার নানার দেশে তাদের বাড়ি। আমি অবশ্যই পরিবারটিকে দেখব।

মন্ত্রী তৌফা-তহুরার বাবার চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান।

এর আগে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানকে সরকারি চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের একমাত্র ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) তার চাকরি হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার যোগদানপত্র দেয়া হবে বলে জানান ইডিসিএলে’র চেয়ারম্যান।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে শরীর জোড়া লাগানো অবস্থায় তৌফা-তহুরার জন্ম দেন।

কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ছিল। তবে জন্ম থেকেই তাদের প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা একটি ছিল। গত বছরের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমবার ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাদের পায়ুপথের রাস্তা পৃথক করা হয়। পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই বোনকে পৃথক করা হয়। সাহিদা বেগম ও রাজু মিয়া দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

রোববার সকালে সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৬৮ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মায়ের কোলে নতুন সাজে সেজে বসে আছে তৌফা-তহুরা। বাড়ি ফেরা উপলক্ষে তাদের শরীরে ঈদের এমন সাজ।

চিকিৎসকদের দেয়া নতুন জামা, চুড়ি, জুতা, আর মাথায় ব্যান্ড পরা তৌফা-তহুরাকে দুটি পুতুল বলে মনে হচ্ছিল। তাদের মা সাহিদা বেগম পরেছিলেন চিকিৎসকদের দেয়া নতুন শাড়ি, বাবা রাজু মিয়া পরেছিলেন নতুন লুঙ্গি-শার্ট।

দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিদায় জানানো হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ তাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকগণসহ ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

তৌফা-তহুরার মা সাহিদা বেগম জাগো নিউজকে জানান, গত রাতে তৌফা-তহুরার চিকিৎসার তত্ত্বাধায়ক অধ্যাপক শাহনূর ইসলাম তাদের সবাইকে নতুন পোশাক উপহার দেন। নতুন জামা পরে বেশ হাসি-খুশি তৌফা-তহুরা।

তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি ফেরার সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সরাসরি গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যাবেন।

জেইউ/এমএআর/এমএস