দেশজুড়ে

যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে মাথার চুল কেটে নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যৌতুকের এক লাখ টাকা না দেয়ায় তানিয়া আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে মাথার চুল কেটে ও মারধর করে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী শ্বাশুড়ি ও দেবরকে আটক করে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পালিয়ে গেছে শ্বশুর জালাল সিকদার। শুক্রবার দুপুরে পাগলা শাহীমহল্লার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন- ওই এলাকার নয়ন মিয়া (৩০) তার মা হাওয়া বেগম (৫০) ছোট ভাই ওসমান (২৮)।

এলাকাবাসী জানান, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা এলাকার দিনমজুর আবুল হোসেনের মেয়ে তানিয়া আক্তারকে (১৯) ৬ মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন নয়ন মিয়া। বিয়ের পর থেকে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তানিয়া আক্তারের ওপর নির্যাতন শুরু করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দীর্ঘদিন যাবত এলাকাবাসী ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন নির্যাতন দেখে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে তানিয়াকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে তানিয়াকে ঘরে নিয়ে যান নয়ন। পরে শুক্রবার সকালে যৌতুকের দাবিতে আবারও তানিয়াকে তার স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও দেবর মিলে বেধরক মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন একত্রিত হয়ে ওই বাড়ি থেকে তানিয়াকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে আটক করে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

নির্যাতিত গৃহবধূ তানিয়া বলেন, আমার বাবা দিনমজুর। এক লাখ টাকা দেয়া তার পক্ষে অসম্ভব। আমার বাবার ৫ হাজার টাকা দেয়ার মত সমর্থ নেই। এজন্য বিয়ের পর থেকেই নির্যাতন সহ্য করছি।

তানিয়া আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেও আমাকে খাবার না দিয়ে মারধর করে এবং সকালে বাবার বাড়ি গিয়ে টাকা এনে দেয়ার কথা বলে। আমি অস্বীকার করলে তারা আমাকে রাতেই ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে এলাকাসী আমাকে ঘরে দিয়ে আসে। সকাল হলে ফের টাকা আনতে বাবার বাড়ি শরীয়তপুর যেতে বলে। এতেও আমি অস্বীকার করলে আমাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। পরে এলাবাসী এসে আমাকে উদ্ধার করে।

ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসী গৃহবধূ তানিয়াকে উদ্ধারসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শাহাদাত হোসেন/আরএআর/এমএস