টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক জেএসসি পরীক্ষার্থী বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। হাতে ছুরি ও ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে গত তিনদিন ধরে বরের ঘরে ঢুকে অবস্থান নিয়েছে। বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে সে বরের ঘরের দরজা বন্ধ করে তালা দিয়ে রেখেছে।
মঙ্গলবার থেকে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের আজগানা গ্রামের ওই বরের ঘরে অবস্থান নিয়েছে সে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মির্জাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেন ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেও তাকে বোঝাতে পারেননি।
এদিকে বিয়ের বয়স না হওয়ায় গত তিনদিনে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানাভাবে ওই ছাত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও সে বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে অনঢ় রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় ওই এলাকার চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, আজগানা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের কলেজ পড়ুয়া ছেলে রবিনের সঙ্গে বছর খানেক আগে পাশের বাঁশতৈল নয়াপাড়া গ্রামের ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্য ঘনিষ্টতা হয় এবং গত ২৯ অক্টোবর তারা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করে।
তাদের ওই বিয়ে মেয়ের পরিবার মেনে না নেয়ায় সে ভিন্ন ধরনের কৌশল নেয়। মঙ্গলবার বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে ওই ছাত্রী রবিনের বাড়িতে গিয়ে ঘরের কলাপসেবল গেটে তালা লাগিয়ে ভেতরে অবস্থান নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রামের মাতাব্বর ও মেম্বারগণ চেষ্টা করে তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়। পরে আজগানা ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক শিকদার ও আতিকুর রহমান মিল্টনও ওই ছাত্রীকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়। এরপর বিষয়টি থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেন আজগানা গ্রামে গিয়ে ছাত্রীর বয়স পূর্ণ হলে ওই ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও সে তার দাবিতে অনঢ় থাকে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ওই ছাত্রী সেই বাড়িতেই অবস্থান করছিল।
মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক ফয়সাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রী জেএসসি পরীক্ষার্থী। তাকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্যও অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেন বলেন, ঘটনাটি সত্য। বর্তমানে ওই মেয়েটির বয়স চৌদ্দ বছর। কিশোরী মেয়েটি ইমোশনাল হওয়াতে তাকে বোঝাতে কষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন বলেন, বিষয়টি জেনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর হোসেনকে পাঠানো হলেও অনেক চেষ্টা করেও ওই ছাত্রীকে বোঝানো সম্ভব হয়নি। তাকে বুঝিয়ে বাবার বাড়ি পাঠাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম শিকদারসহ স্থানীয়দের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এমএএস/আইআই