যশোরে বিজয় দিবসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হাতাহাতি, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের টাউন হল ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে সাবেক কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু ও বর্তমান কমান্ডার রাজেক আহমেদ অনুসারীদের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। পরে জেলা প্রশাসক তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের টাউন হল রওশন আলী মঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান মঞ্চে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রাজেক আহমেদকে ডাকা হয়। এসময় রাজেক বিরোধী মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তারা মঞ্চের দিকে চেয়ার ছুঁড়ে মারেন। টেবিল ভেঙে ফেলেন। এসময় দুই পক্ষের লোকজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসক মাইকে ঘোষণা দেন শান্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু মুযাহারুল ইসলাম মন্টুর অনুসারীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মুযহারুল ইসলাম মন্টু ও রবিউল আলম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। মঞ্চে জেলা প্রশাসক মাইকে ঘোষণা দেন আগামী তিন দিনের মধ্যে দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রবিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসক সরকারের প্রতিনিধি। তিনি এমন বিতর্কিত হবেন, আমরা কখনও কল্পনা করিনি। সরকারের সুস্পষ্ট আদেশ সত্ত্বে তিনি কেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব নিচ্ছেন না, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করলে ভালো হবে। তা না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে। ডিসি সাহেব কি চান সেটি পরিষ্কার করতে হবে।
বর্তমান কমান্ডার রাজেক আহমেদ বলেন, আইনগত কারণে ৬৮টি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কমান্ডারের দায়িত্বে আমি আছি।
বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের জবাবে জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অনেক জেলায় সংসদের দায়িত্ব হস্তান্তরের করেছে। আবার অনেক জায়গায় দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি। আমি মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য লিখেছিলাম। আশা করছি আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা হয়ে যাবে। আপনারা ধৈর্য্য ধরুন।
মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি