দিনাজপুরে নবগঠিত বিরল পৌরসভা নির্বাচনে ঋণ খেলাপির দায়ে ভোটগ্রহণের চার দিন আগে বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের (মোবাইল ফোন) প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খানের গত ২৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিরল পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্তকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানার কাছে পত্র দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরল পৌরসভার তফশিল অনুয়ায়ী গত ২৮ ও ২৯ নভেম্বর প্রার্থিতা বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। বাছাইয়ে ঋণ খেলাপির দায়ে রিটার্নিং কর্তকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল করেন।
এ নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেন। জেলা প্রশাসক আপিল শুনানি শেষে মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
এর ফলে আইএফআইসি ব্যাংক, বিরল উপজেলা শাখা গত ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেন। গত ১০ নভেম্বর শুনানি শেষে বিচারক মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল করেন।
ওই আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান বিরল উপজেলার রিটার্নিং কর্তকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানাকে মনোনয়ন বাতিল করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটার্নিং কর্তকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা জানান, মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্দেশ অনুয়ায়ী তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেন আইএফআইসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকসহ তিনটি ব্যাংকের কাছে ৯ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে মেয়র প্রার্থী বাবুল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এমদাদুল হক মিলন/এএম/আইআই