গণমাধ্যম

সরকার প্রশাসন গণমাধ্যম এক নৌকায় : ইনু

দেশ সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রের উত্তরণ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সরকার, প্রশাসন এবং গণমাধ্যম এই মুহূর্তে এক নৌকায় আছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা : আমাদের গণমাধ্যম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য মানবাধিকার ছাড়া কেবল ভোটের অধিকার খণ্ডিত গণতন্ত্র। আজকে আমরা একটি উত্তরণ পর্বে যাচ্ছি। ধর্মনিরপেক্ষতা যেখানে লেখা আছে, সেখানে সংবিধানের পুনস্থাপনটা কী যে দুরূহ কাজ এটা কেউ বুঝতে পারছেন না।’

‘আজকে শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক ছাতাটা মাথার ওপর আছে বলে বিভিন্ন অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিকশিত হচ্ছে। হেফাজতের ছোবল থেকে, তেঁতুল হুজুরের আক্রমণ থেকে আপনাকে তো রক্ষা করেছে। এখন তো আর উদীচীর মাঠে বোমা পড়ে না, কেউ শহীদ মিনার ভেঙে ফেলে না। এখন তো পীর-ফকির মাজারকে অসম্মান করে, সেখানে গজার মাছকে বিষ খাইয়ে মারা হয় না। পরিবেশটাই পালটে গেছে।’ বলেন ইনু।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ না। আপনি সমালোচনা করছন। কিছু পারছি, কিছু পারছি না। আপনার সমালোচনা স্তব্ধ করে দেইনি আমরা। তাহলে এতো গণমাধ্যম বিকশিত হতো না। আপনি জঙ্গি-সঙ্গী খালেদাকে এবং শেখ হাসিনাকে এক পাল্লায় মাপবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরশাসক হিসেবে যদি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে যদি সমালোচনা করতে হয়, তাহলে জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সমালোচনা করতে হবে। একজনকে সমালোচনা করবেন, আর অন্যজনকে করবেন না তা হতে পারে না।’

পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খোন্দকর মুনীরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

এমএএস/বিএ