আমাদের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য অবহেলিত মানুষ। একটু ভালো খাওয়া, পড়ালেখা করা, ঈদে নতুন জামা যেন ওদের কাছে বিলাসিতা। আমাদের সমাজের যারা বিত্তবান ও সচ্ছল ব্যক্তি আছেন তাদের একটু নজরই বদলে দিতে পারে অবহেলিতদের জীবন।
সেই চিন্তা থেকেই এবং অন্যান্যদের মাঝে অনুপ্রেরণা জাগাতে ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ৪৬তম ব্যাচের ২০১৪-০১৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের। নিজেদের পড়ালেখার সামান্য টাকা থেকেই সবাই কিছু টাকা দিয়ে হলের ডাইনিংয়ে কর্মরত শিশুদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিতে নতুন জামা বিতরণের উদ্যোগ নেয়।
বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মোট ১৩টি হল। সেসব হলের ডাইনিংয়ে কাজ করে ৭ থেকে ১৫ বছরের শিশুরা। কাজ করে সামান্য যে অর্থ পায় তা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় ব্যয় করে। নিজেদের স্বাদ-আহ্লাদ বা পড়ালেখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। সেখানে ঈদে একটি নতুন জামা বিলাসিতাই বলা চলে। তাদের মুখে হাসি ফুটাতে সাধ্যের মধ্যে ভালোবাসার ছোঁয়া পৌঁছে দিতে ১৩টি হলের প্রায় ৩০ জন শিশুর মাঝে নতুন জামা তুলে দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারিতে এসব জামা বিতরণ করা হয়। এ সময় মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, মাছ চাষ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাাদ হোসেন, মাছ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুল হক, লেকচারার মো. আল ইমরানসহ ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শাহজালাল হলের ডাইনিংয়ে কর্মরত সোহাগ অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, নতুন জামা পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। এবার ঈদে আর পুরাতন জামা পরতে হবে না। নতুন জামা পরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পারবো।
এ বিষয়ে ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, ভালো কিছু করার চিন্তা থেকেই ডাইনিংয়ে কর্মরত অবহেলিত শিশুদের জামা দেয়ার উদ্যোগ নিই। সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর পাশে আমাদেরই দাঁড়াতে হবে। তবেই সমাজ ও দেশ বদলাবে।
মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দিন আহমদ বলেন, এটা এক মহতী উদ্যোগ। আমার শিক্ষার্থীরা এমনটি ভাবতে পারে দেখেই গর্ববোধ করছি। ভবিষ্যতে এরা সমাজের অবহেলিতদের নিয়ে আরও ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। এদের দেখে অন্যদের অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। এভাবে প্রত্যেকে আমরা সমাজ নিয়ে ভাবলে গড়ে ওঠবে সোনার বাংলা।
মো. শাহীন সরদার/এএম/পিআর