সবাই যখন পরিবার-পরিজন, প্রিয় মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত তখন সংবাদকর্মীদের ঈদ কাটে খবরের পেছনে ছুটে। দায়িত্ব তাদের তাড়া করে বেড়ায়। কোথায় কখন অঘটন ঘটল, নিয়মের ব্যত্যয় হলো কিনা, এসবের পেছনে ছুটেই ঈদ কাটে সংবাদকর্মীদের। ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় যে কোন উৎসবেই দায়িত্ব তাদের পিছু ছাড়ে না। পাঠকের কাছে সর্বশেষ খবর পৌঁছে দেয়ায় প্রধানতম দায়িত্ব খবরের এই মানুষগুলোর।
সেই ধারাতেই এবারও বার্তাকক্ষেই ঈদ কাটিয়েছেন বহু সংবাদকর্মী। খুব সকালে ঈদের নামাজের খবর দিয়ে দিন শুরু করেছেন তারা। এরপর সারাদিনে অন্য আর দশটা দিনের মতোই এসেছে খবরের ধারা। দেশে, দেশের বাইরে এমনকি পৃথিবীর বাইরে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাও আসলে একজন সংবাদকর্মীর দায়িত্বের পরিধির মধ্যে পড়ে। আর সেই সব খবরের কেন্দ্রবিন্দু যেন বার্তাকক্ষগুলো।
তাই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়নি এই বার্তাকক্ষ। এখানেই সবাই ভাগ করে নিয়েছেন ঈদ আনন্দ, প্রিয়জনের কাছে মন পড়ে থাকার বেদনা। ভাগাভাগি করে খেয়েছেন ঈদের খাবার।
সংবাদকর্মীরা মূলত দুটি অংশে ভাগ হয়ে কাজ করে থাকেন। যারা রিপোর্টিংয়ে কাজ করেন তাদের সময়টা বেশি কাটে বাইরে। আর যারা খবর সম্পাদনার সঙ্গে জড়িত তাদের থাকতে হয় বার্তাকক্ষেই। বার্তাকক্ষের মানুষগুলোকে ব্যস্ত থাকতে হয় প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর প্রস্তুত করার কাজে। তাই প্রতিবেদকদের ঈদ কাটে মাঠে আর সহ-সম্পাদকের বার্তাকক্ষে।
জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সিরাজুজ্জামান। বলেন, পরিবার ছাড়া বাইরে ঈদ করা খুবই কষ্টের। দায়িত্বের কারণে অনেক সময় বাইরে থাকতে হয়। অফিসকালীন সময়টা অনেক সুন্দর কাটে। এ কারণে বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের ভুলে থাকা যায়।
অফিসে ঈদের বিষয়ে জানতে চাইলে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক ও শিফট-ইন-চার্জ নাঈম ফেরদৌস রিতম বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের সুখ-দুঃখের কথা বলার কেউ নেই আসলে। ঈদের মতো দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে থাকাটা মোটেও আনন্দের নয়। তারপরও পেশাদারিত্বের কারণে সেটাই আমাদের বাস্তবতা। আমাদের কারণে আমাদের প্রিয়জনদের যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।
জাগো নিউজের আরেক সহ-সম্পাদক মুখলেছুর রহমান। বলেন, আগে থেকেই জানতাম কুরবানির ঈদ অফিসে করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুত ছিলাম। সংবাদ জগৎটা একটু আলাদা। ঈদ মানেই তো আনন্দ, হোক বার্তাকক্ষ কিংবা বাড়িতে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন বেশি আনন্দের তবে অফিসেও এর কমতি ছিলো না। যদিও বাড়ির জন্য মনটা আমার ছটফট করছে তবুও বেশ আছি।
সহ-সম্পাদক তানিয়া তাসনিম নীলিমা, আছেন আন্তর্জাতিক বিভাগে। বলেন, আসলে ঈদের দিনটা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারার আনন্দই আলাদা। কিন্তু পেশার কারণে অনেক সময় এই দিনেও আমাদের বাইরে থাকতে হয়। কিছুটা কষ্টতো লাগেই। অফিসতো আমাদের একটা পরিবার তাই সবার সঙ্গে থেকে খুব একটা খারাপ যায় না।
সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজ। বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন কোন এক ঈদে একটা নিউজ দেখেছিলাম। নিউজটা সাংবাদিকদের নিয়ে করা হয়েছিল, যারা ঈদেও অফিস করছিলেন। তখন মনে হয়েছিল, ঈদের দিনে অফিস করাও কি সম্ভব! অথচ আজ আমি নিজেই অফিস করছি। তারপরও ভালো লাগছে।
কারণ, গতবার যেসব সহকর্মীরা ঈদ করতে পারেননি, আজ আমরা অফিস করার কারণে তারা নিকট জনের সঙ্গে ঈদ করতে পারছেন। এই আনন্দও কম কিসের। তারপরও এমন একটা দিনে প্রিয়জন থেকে দূরে থাকা খারাপ লাগারই বিষয়।’
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন সংস্কারের সংবাদকর্মী তবিবুর রহমান তার ফেসবুক ওয়ালে ঈদ মোবারক জানিয়ে লিখেছেন, পেশাদারিত্বের কারণে পরিবার পরিজন ছাড়া ঢাকাতে ঈদ উদযাপন।
পবিরার ছাড়া ঈদের দিন অফিসে ব্যস্ততম সময় পার হলেও কিছু কষ্ট ছিল মনের মধ্যে। তবে সহকর্মীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও পরম সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেটে গেল ঈদের দিন।
এএস/এসআর/এনএফ/এমআরএম/এমএস