দেশজুড়ে

ভোগান্তিতে গাইবান্ধার মানুষ

৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে রোববার সকাল ৬টা থেকে দিনভর ভোগান্তিতে কেটেছে বিভিন্নস্থানে গন্তব্যমুখী গাইবান্ধার সাত উপজেলার মানুষের। কোনো বাস না পেয়ে বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদেরকে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দূর-পাল্লার যাত্রীদের। চলাচল বন্ধ রয়েছে বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটো গাড়ির।

বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা থেেক ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রংপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। এসব পরিবহনে কর্মরত রয়েছে এক হাজারেরও বেশি মানুষ। জেলা বাসস্ট্যান্ড ছাড়াও সুন্দরগঞ্জ বাইপাস মোড় থেকে বাস চলাচল করে রংপুরে।

রোববার দুপুরে জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রমিকরা বাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বাসে টেলিভিশনে সিনেমা দেখছেন অনেকে। কেউবা টিভির পর্দায় নজর রাখছেন দেশের বিভিন্নস্থানে কর্মবিরতির সর্বশেষ খবর জানতে। বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য আসা যাত্রীদের জেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে চলাচল করতে দেখা গেছে।

এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আট দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। এসব শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন। বেশিরভাগ শ্রমিকেরই রয়েছে বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া ঋণ। বাস চলাচল বন্ধ থাকলে এসব শ্রমিকদের বেশিরভাগই দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল চালু করার দাবি জানান চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারসহ অন্যান্য পদের শ্রমিকরা।

দাড়িয়াপুর এলাকার সুমন কুমার বর্মণ বলেন, ছোট বোন রংপুরে যাবে। বাস না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। পরে ট্রেনে যাওয়া গেলেও প্রচন্ড ভিড় থাকায় সিট পাওয়া যায়নি। দ্রুতই সমাধান হওয়া উচিত।

গাইবান্ধা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম কুমার চক্রবর্তী বিশু বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধাতেও বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধনের দাবি জানান তিনি।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/আরআইপি