নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করেও রেহাই পেল না বগুড়ায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিবাহাড়ী (৪০)। সোমবার দুপুরে নাটোর থেকে তাকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
শিবাহাড়ী নিজের হিন্দুধর্ম গোপন করে মুসলমান নাম সেলিম হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে। সেখানে নাটোর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে তিনি চাকরি করতেন।
বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুরস্থ সুইপার কলোনিতে খুন হয় শ্রী রনি বাঁশফোড় (২০)। ঘটনার পরপরই একমাত্র আসামি শিবাহাড়ী সপরিবারে নিরুদ্দেশ হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে বগুড়া সদর থানা পুলিশ পলাতক আসামি শিবাহাড়ীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
এরপর আদালত শুনানি শেষে তিনি পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০১৭ সালের ১৩ জুন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বগুড়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ শিবাহাড়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
এদিকে সদর থানা পুলিশের ওসি বলেন, গোপন সংবাদে আমরা জানতে পারি আসামি শিবাহাড়ী নিজের নাম, ঠিকানা ও ধর্ম পরিবর্তন করে সেলিম নাম ধারণ করে। এরপর থেকে তিনি নাটোর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে চাকরি করছেন। সোমবার এ তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া থেকে একটি বিশেষ টিম নাটোর গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রতিবেশী রনি বাঁশফোড়কে ছুরিকাঘাত করে শিবাহাড়ী। ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তপাতে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় সে। এরপর গ্রেফতারের ভয়ে সপরিবারে আত্মগোপন করেছিল শিবাহাড়ী।
লিমন বাসার/এমএএস/এমএস