পটুয়াখালীর বাউফলে এক পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে সালিশ-বৈঠক পণ্ড করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক মুক্তিযোদ্ধা এবং সালিশকারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবার এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি তৌহিদ মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম বীরপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলামের (৪৬) সঙ্গে একই গ্রামের মো. সেলিম হাওলাদার (৬৬) গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শুক্রবার সকাল ১০টায় কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠক শুরু হয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে সেলিম হাওলাদারের পক্ষে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত মো. শহিদুল ইসলাম স্বপনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সালিশ-বৈঠকে হামলা চালায়।
এতে মো. হযরত আলী (৫৫), জাহিদুল ইসলাম (২২), মো. রাকিব (২২), মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী খান (৭২), এনামুল বারী ওরফে লিটন সিকদার (৪২) আহত হন। প্রথমে তাদের বাউফল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় হযরত আলী, জাহিদুল ও রাকিবকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সালিশকারী মুক্তিযোদ্ধা মো. নওয়াব আলী খান জানান, শহিদুল ইসলাম স্বপন সালিশ-বৈঠকে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ইউপি চেয়ারম্যান মো, শাহিন হাওলাদার বলেন, শহিদুল ইসলাম স্বপনের নেতৃত্বেই হামলা চালিয়ে সালিশ-বৈঠক পণ্ড করে দেয়া হয়েছে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম স্বপন বলেন, যখন মারামারি হয় আমি তখন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি বাজারে ছিলাম।
নজরুলের ছোট ভাই জিয়া বলেন, এ ঘটনায় আহত হযরত আলীর স্ত্রী জামিলা বেগম বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলা করেছেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি তৌহিদ মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলার ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। তিনি জানান, এজাহারে কোনো পরিচিতি উল্লেখ নেই। আসামিদের মধ্যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আছেন কি-না তা বলা যাচ্ছে না।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/এমকেএইচ