কবুতরের মাংস খুবই মজাদার। বিশেষ করে কবুতর ভুনা পাতে দেখলেই ঝে জল চলে আসে কমবেশি সবার। অনেকেই শখের বশে কবুতর পোষেন। আপনার এই প্রিয় পোষ্য পাখির মাংস স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী, তা হয়তো জানা নেই অনেকেরই!
কবুতরের মাংসের স্বাদ মুরগির মাংসের চেয়ে আরও সুস্বাদু। আকারে ছোট হলেও কবুতরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে, যা গরুর মাংসের কাছাকাছি। এতে থাকা প্রোটিনের মান ১০০ গ্রামে ১৭.৫ গ্রাম, যা গরুর মাংসের কাছাকাছি ১০০ গ্রামে ১৮.৮ গ্রাম।
এমনকি এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও বেশি থাকে মুরগির মাংসের চেয়ে। একটি কবুতরের মাংসে আয়রন, ফসফরাস, ভিটামিন বি ১২ থাকে।
কবুতরের বাচ্চা খাওয়ার উপকারিতাএসব উপাদান আমাদের মস্তিষ্ক ও ত্বকের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনকেও উন্নত করে। আবার কবুতরের মাংস দ্রুত রান্নাও করা যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কবুতরের মাংস খাওয়ার উপকারিতাসমূহ-
আরও পড়ুন
ছুটির দিনে পাতে রাখুন কবুতরের মাংস ভুনা কবুতরের রোস্ট রাঁধবেন যেভাবে কবুতরের মাংসে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছেকবুতরের মাংস স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হলেও এর চামড়া বেশি চর্বিযুক্ত। তাই অতিরিক্ত কবুতরের মাংস খাওয়া উচিত নয়। অবশ্যই পরিমাণ মেপে তবেই খান কবুতরের মাংস।
১. অ্যালার্জি ঝুঁকি: আপনার যদি পোল্ট্রি পণ্য বা পাখির মাংসে অ্যালার্জি থাকে, তবে কবুতরের মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি খেলে ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। ২. কিডনি ও ইউরিক অ্যাসিড: কবুতরের মাংসে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন ও প্রোটিন থাকে। যারা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ৩. হজমের সমস্যা: কবুতরের মাংস বেশ বলবর্ধক এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। দুর্বল হজমশক্তির অধিকারী ব্যক্তিরা অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে পেটে অস্বস্তি বা বদহজমে ভুগতে পারেন। ৪. উচ্চ কোলেস্টেরল: কবুতরের চামড়ায় অধিক চর্বি থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে চামড়া বাদ দিয়ে শুধু চর্বিহীন মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৫. জীবাণু সংক্রমণ: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পালিত কবুতর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে মাংস রান্নার আগে ভালো করে পরিষ্কার করা এবং পর্যাপ্ত তাপে সুসিদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। সতর্কতা ও জরুরি পরামর্শ রান্নায় সতর্কতা: কবুতরের মাংস পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং পর্যাপ্ত তাপে সিদ্ধ করে নিন। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আধাসিদ্ধ মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিমিত আহার: পুষ্টিকর হলেও যেকোনো খাবার অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে সপ্তাহে এক বা দুই দিনের বেশি কবুতরের মাংস না খাওয়াই ভালো। বিশেষ পরামর্শ: শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা যারা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগে ভুগছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় কবুতরের মাংস রাখার আগে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের মতামত নিন। হৃদরোগীদের জন্য: উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বা শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে কবুতরের মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত (চামড়া বাদ দিয়ে খাওয়া উত্তম)। সুষম খাবার: শুধু মাংস নয়, প্রতিদিনের ডায়েটে ভারসাম্য বজায় রাখতে কবুতরের মাংসের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার যুক্ত করুন।চিকিৎসকের মতে, কবুতরের মাংস পুষ্টিকর হলেও কিডনি রোগী বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগলে তা এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের রোগীদের চামড়া ছাড়া পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: ডা. হেলথ বেনিফিটস/দ্য গার্ডিয়ান
জেএমএস/এএসএম