লাইফস্টাইল

পুরুষদের যেসব সমস্যার সমাধান দেয় কুমড়ার বীজ

কুমড়া খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী এক সবজি। তবে শুধু কমড়া নয় বরং এর বীজও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। বিভিন্ন রোগের প্রাকৃতিক দাওয়াই হলো এই বীজ।

বিশেষ করে পুরুষের সুস্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর রাখে কুমড়ার বীজ। পুরুষের প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এমনকি উর্বরতাও বাড়ায় এই জাদুকরী বীজ। এছাড়া এই বীজ উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের দুর্দান্ত এক উৎস।

কুমড়ার বীজ প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ইউরোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, কুমড়ার বীজ খাওয়া প্রোস্টেট স্বাস্থ্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা পুরুষের যৌন স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এটি সাধারণত প্রোস্টেট গ্রন্থি শক্তিশালী করতে ও পুরুষদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর হরমোন ফাংশন উন্নীত করতে সাহায্য হয়। কুমড়ার বীজ খেলে সৌম্য প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া (বিপিএইচ) এর সমস্যা কমে।

যা একটি বর্ধিত প্রোস্টেট গ্রন্থির কারণে প্রস্রাবের সমস্যার সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কুমড়ার বীজ খেলে বিপিএইচ সম্পর্কিত উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পুরুষের উর্বরতা বাড়ায় কুমড়ার বীজ

কুমড়ার বীজে থাকা জিঙ্ক থেকে পুরুষরা উপকৃত হন। শুক্রাণুর গুণমান কমে যাওয়া এমনকি পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব কম জিঙ্কের মাত্রার কারণে হতে পারে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই বীজ অন্তর্ভুক্ত করলে সামগ্রিক শুক্রাণুর গুণমান উন্নত হতে পারে।

ডিকে পাবলিশিং-এর ‘হিলিং ফুডস’ বই অনুসারে, কুমড়ার বীজ পুরুষদের উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। আবার এই বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পুরুষের স্বাস্থ্যকর টেস্টোস্টেরনের মাত্রায়ও ভূমিকা পালন করতে পারে।

উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণে

কুমড়ার বীজে পাওয়া যায় উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন। যা পেশি তৈরি ও মেরামতের জন্য অপরিহার্য। ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) নিউট্রিশন চার্ট অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কুমড়ার বীজে প্রায় ২৩.৩৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। সহজ প্রোটিন বুস্ট পেতে খাবারে বা নাস্তায় কুমড়ার বীজ যোগ করুন।

আরও পড়ুন

মিষ্টি কুমড়া বীজ খেলে শরীরে কী ঘটে? কুমড়ার বীজেই ৭ রোগ নিরাময়! ওজন কমায়

কুমড়ার বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ২৬ হাজার মার্কিনদের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বাদাম ও বীজ খান তারা কম স্থূল ছিলেন, নোট মাইকেল টি. মারে ও জোসেফ পিজোর্নোর বই ‘দ্য এনসাইক্লোপিডিয়া অফ হিলিং ফুডস’।

আরও যত উপকারিতা আছে চুলের স্বাস্থ্য ও কোষ গঠনে কুমড়ার বীজ কীভাবে সাহায্য করে?

কুমড়ার বীজ প্রচুর পরিমাণে জিঙ্কসমৃদ্ধ। এটি শরীরের কোষের পুনর্নবীকরণ, অভ্যন্তরীণ ক্ষতি মেরামত এবং চুলের গোড়া মজবুত করে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কুমড়ার বীজ কি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়াতে পারে?

হ্যাঁ, এই বীজ ফসফরাসের অন্যতম সেরা উৎস। ফসফরাস শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম উন্নত করতে সাহায্য করে, যা আমাদের শক্তি বাড়াতে কার্যকর।

হৃৎপিণ্ড ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য কুমড়ার বীজ কেন উপকারী?

কুমড়ার বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্ত সঞ্চালন সচল রাখে। এছাড়া এটি অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতেও সহায়তা করে।

প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে কুমড়ার বীজের ভূমিকা কী?

কুমড়ার বীজে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য। এটি শরীরের ভেতরে প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

ভালো ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য কুমড়ার বীজ কীভাবে কাজ করে?

এই বীজে 'ট্রিপটোফেন' নামক একটি উপাদান থাকে। এই বিশেষ উপাদানটি রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে এবং বিষণ্নতা বা মানসিক অবসাদ কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

শেষ কথা

পুরুষরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কুমড়োর বীজ অন্তর্ভুক্ত করলে বিভিন্নভাবে লাভবান হবেন। তবে কারও যদি কঠিন কোনো রোগ থাকে তাহলে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় কুমড়ার বীজ যোগ করার আগে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

জেএমএস/এমএস