ঘন ঘন লোডশেয়িংয়ে অতিষ্ঠ ও দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলবাসীর জীবন। বৈশাখের প্রচণ্ড তাপদাহের সঙ্গে যেন একযোগে চলছে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টাও বিদ্যুতের সার্ভিস দিতে পারছে না বিদ্যুত বিভাগ। ঘন ঘন এই লোডশেডিংয়ের ফলে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড। গরমে বৃদ্ধি পেয়েছে ডায়রিয়া ও হিট স্ট্রোকসহ নানা রোগ।বিদ্যুতের ভোগান্তি প্রসঙ্গে সমবায় মর্ডান সুপার মার্কেট এর বস্ত্র ব্যবসায়ী বাবু সাহা জানান, প্রচণ্ড তাপদাহ আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। দিনে গরমের কারণে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও দিন শেষে ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময়টাতেও তারা ব্যবসা করতে পারেছেননা। এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।টাঙ্গাইল প্রিক্যাডেট স্কুল শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিনা বেগম বলেন, লোডশেডিংয়ের ফলে বাচ্চাদের লেখাপড়ায় চরম সমস্যা হচ্ছে। দিনে স্কুল ও কোচিং শেষ করে বিদ্যুতের অভাবে রাতে ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছেনা বাচ্চারা। এর ফলে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই অস্বাভাবিক গরমের পাশাপাশি অধিকাংশ সময় বিদ্যুত না থাকায় প্রতিটি পরিবারেরই চরম সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমত মিয়া বলেন, অসহ্য গরমে তাদের বেচা-বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়া এই অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ই.এম ও মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন এই তাপদাহে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি।এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিপণন) মো. সাহাগীর হোসেন জানান, সারাদেশে বিদ্যমান নৌ ধর্মঘটের কারণে তেল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত যোগান দিতে না পারায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকছে। যার ফলে জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের সাময়িক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন টাঙ্গাইলে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ মেগাওয়াট। একারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এবিএস