দেশজুড়ে

আমি হারিনি, নৌকাকে হারানো হয়েছে

ঝিনাইদহ হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ছেষট্টি বছরের আওয়ামী লীগ নেতা মুনছুর আলী মণ্ডল অভিযোগ করে বলেছেন, আমি হারিনি, নৌকাকে জোর করে হারানো হয়েছে।তার অভিযোগ, তিনি নৌকা প্রতীক পেলেও ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতারা তার পক্ষে কেউ কাজ করেননি বরং তারা কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে। দলীয় প্রতীক না পেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মাস্টারের ছেলে রাবিকুল হাসান রাসেল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে জয়ী হন।তিনি আরও জানান, আজ তিনি সব কিছু হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব। চাষের ১৩৮ শতক জমি বিক্রি করে, গরু-ছাগল ও ভিটেবাড়িসহ ধান বেচওে তিনি মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার সম্মান রাখতে পারেননি। দেনা রয়েছেন আরো ৪ লাখ টাকা। জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি হেরে গেছেন। গত ৭ই মে রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ৩,৬৫৫ ভোট পান। আর বিজয়ী প্রার্থী আনারস প্রতীক নিয়ে পান ৬,০৬৩ ভোট।মুনছুর আলীর বড় ছেলে ওবাইদুর রহমান জানান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আলী ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আওয়ামী লীগ কারার কারণে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৫৬টি মামলা হয়েছে।হরিণাকুণ্ডুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান, ইজাল উদ্দীন ও হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি আজ হাসপাতালে ভর্তি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মুনছুর আলী পরাজিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার মাথা গোজার ঠাঁই ভিটেমাটি ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে যে ৪ লাখ টাকা দেনা আছে তা বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে তার বেঁচে থাকার মতো ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মশিয়ার রহমান জোয়ারদার জানান, মুনছুর আলী মণ্ডল দলের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে বৃদ্ধ বয়সে চেয়ারম্যান হলে আরো খুশি হতাম। কিন্তু দলের প্রভাবশালী একটি মহল নৌকার পক্ষে ভোট করেনি। এরচেয়ে বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/আরআইপি