Jago News logo
ঢাকা, রোববার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
ASUS-Jago-bd-gif

নীলক্ষেতে পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে দুই ছাত্রলীগ নেতা


মুনির হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার | আপডেট: ১২:২৯ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার
নীলক্ষেতে পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে দুই ছাত্রলীগ নেতা

নীলক্ষেত এলাকায় পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ও স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিন কর্মী নিয়োগ দিয়ে পানির ব্যবসা পরিচালনা করেন তারা। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত এই দুই নেতা। তারা বলেন, তাদের নাম ব্যবহার করে ছাত্রদলের ‘এক বড় ভাই’ এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ পেয়েছেন। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, অভিযুক্ত এই দুই নেতা নীলক্ষেতের বাকুশাহ মার্কেট থেকে শুরু করে কাঁটাবন ঢাল পর্যন্ত পানির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। ১০ টাকা ধরে কিনে প্রতি ফিল্টার পানি ৩০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। কিন্তু গত জানুয়ারিতে এক নোটিশে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফিল্টার প্রতি পানি ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।



দুই নেতার স্বাক্ষর সম্বলিত নোটিশে প্রত্যেক হোটেলকে দৈনিক সর্বনিন্ম ৩০টা পানি চালাতেও নির্দেশনা দেয় তারা। এছাড়াও নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কোন হোটেলকে ফ্রি পানি দেয়া হবে না। এমনকি কোন হোটেল লাইনের পানি চালাতে পারবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে যদি বিল পরিশোধ না করা হয় তাহলে হোটেলে পানি দেয়া বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।

নোটিশ পেয়ে হোটেল মালিকরা প্রতি ফিল্টার পানি ৩৫ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে এক সপ্তাহ পানি সরবারহ বন্ধ রাখে সোহান-হাফিজ। শেষমেশ ৩০ টাকা দামে গত সপ্তাহ থেকে পুনরায় হোটেলগুলোতে সরবারহ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহান-হাফিজ সরাসরি হোটেলগুলোতে যান না। তারা এ কাজে তিনজন কর্মী নিয়োগ করেন। কর্মীরা হলেন- রাসেল, ইউসুফ ও করিম।

ভুক্তভোগী দোকান মালিকরা বলেন, নরমাল পানি ৩০ টাকা মূল্যে তারা এতোদিন বিক্রি করছেন। তারপর ৫ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়। কিন্তু আমরা কারো কাছ থেকে পানির টাকা নিই না। এ নিয়ে একটি নোটিশও দেয়। জার প্রতি ৩৫ টাকা না দেয়ায় তারা এক সপ্তাহ পানি বন্ধও রেখেছে। পরে পুনরায় ৩০ টাকা দামে চালু রেখেছে।

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এর সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার আর হাফিজ ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে আমাদের বরিশালের সুমন হোসেন নামে এক বড় ভাই কয়েকটা দোকানে এ ব্যবসা করছেন বলে জানতে পেরেছি। তিনি ছাত্রদল করেন। এফ রহমান হলের যুগ্ম-আহ্বায়ক। আমি শুনেছি তিনি ১২ টাকা ধরে পানি কিনে ৩০ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। সম্প্রতি ৩৫ টাকা পানির দাম করা হয়।

আপনাদের নাম বিক্রি করে ছাত্রদল নেতা পানির ব্যবসা করছেন জেনেও কেন ব্যবস্থা নেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি খুঁজছি। কিন্তু সুমনকে পাইনি। কিন্তু তার নিয়োগ দেয়া কর্মীরাতো এখনো হোটেলে পানি সরবারহ করছেন- বলতেই সোহান বলেন, আমরা তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারিনি। আসলে আমি এসব কিছুর সঙ্গে জড়িত নই। আমার স্বাক্ষরও সেখানে জাল করা হয়েছে, নোটিশটি আমি এখনো দেখিনি। আর ওই সময় আমি কক্সবাজার ছিলাম।
 
অভিযুক্ত অন্য নেতা স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমি একদিন আগে জানতে পেরেছি যে আমার হলের ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন জানতে পেরে তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সোহাগ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন মামলা করতে। আজ করতে পারিনি, শনিবার করবো।
 
আপনি চাইলে পানি সরবরাহ করা বন্ধ করতে পারতেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা পানি সরবরাহ করে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সুমনকে ধরার চেষ্টা করছি। সুমনের নম্বর নিয়েছি, কিন্তু নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। আমরা শনিবার মামলা করবো।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, আমি এমন কোনো বিষয় শুনিনি। আমি দুই সভাপতিকে ডাকছি। ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের আগেও ঘোষণা ছিল যে, ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ কাউকে করতে দেয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, আমি এমন বিষয়ে জানি না। বিষয়টি সম্পর্কে জেনে বলতে পারবো।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের কেউ এ কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। যে এমন নোটিশ তৈরি করেছে, তার বিরুদ্ধে জিডি করা হবে।
 
সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, আমি এমন বিষয়ে কিছু জানি না। যদি কেউ এ বিষয়ে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এমএইচ/এআরএস

আপনার মন্তব্য লিখুন...