Jago News logo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধকে কান ধরে সিজদা করালেন এসআই


কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৭:২৫ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
বৃদ্ধকে কান ধরে সিজদা করালেন এসআই

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক বৃদ্ধ গাড়িচালককে রাস্তায় কান ধরে সিজদা করিয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদর চৌমুহনী চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছনার শিকার চালকের নাম মীর কাশেম (৫৫)। তিনি কক্সবাজার সদরের নাজিরারটেক এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।

বয়োবৃদ্ধ এ চালকের সঙ্গে এমন ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো জেলায় সমালোচনার ঝড় বইছে। এ ঘটনায় প্রচণ্ড অপমানিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গাড়িচালক মীর কাশেম।

coxbazars

মীর কাশেম বলেন, কক্সবাজার থেকে মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় তাকে থামান পুলিশের এক লোক। পুলিশ দেখে গাড়ি থেকে নামতেই তার গায়ে গাড়ি লাগার অজুহাতে তাকে কানধরে রাস্তায় সিজদার নির্দেশ দেন।

এতে তিনি আপত্তি করলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে কান ধরিয়ে রাস্তার মাঝখানে সিজদা করতে বাধ্য করান এসআই। ছেলের বয়সী এক পুলিশ অফিসারের কাছে এমন লাঞ্ছনার শিকার হয়ে তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই তৌহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে পেকুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগটি শুনেছি। আমি স্টেশনের বাইরে থাকায় বিস্তারিত জানি না। ওসি (তদন্ত) দায়িত্বে আছেন, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

oxbazars

পেকুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, এসআই তৌহিদ এক চালককে রাস্তায় কান ধরিয়ে সাজা দিয়েছেন শুনলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কক্সবাজার জেলা সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। চালক হিসেবে তিনি কোনো অপরাধ করলে তাকে যথাযথ পন্থায় আইনের কাছে সোপর্দ করা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাজ। তিনি কোনো মতেই কাউকে জনসম্মুখে লাঞ্ছিত করতে পারেন না। আশা করছি জেলা পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন বলেন, অভিযোগটি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...