Jago News logo
Web-Banner-26-mar
ঢাকা, রোববার, ২৬ মার্চ ২০১৭ | ১২ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

বইমেলা বুলেটিন সংগ্রহ নেশার মতো


আবিদ করিম মুন্না

প্রকাশিত: ০৬:২৪ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৩৮ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
বইমেলা বুলেটিন সংগ্রহ নেশার মতো
BiskClub

ইরানের প্রখ্যাত কবি ওমর খৈয়ামের একটি লেখা আমার ভীষণ প্রিয়-‘নগদ যা পাও হাত পেতে নাও, বাকির খাতায় শূন্য থাক, দূরের বাদ্যি শুনে লাভ কি তোমার, মাঝখানে যে বেজায় ফাঁক।’ জীবনে ভালো যা কিছু পেয়েছি হাত পেতে নিয়ে চেষ্টা করেছি সংরক্ষণ করতে। সেজন্যই বোধকরি সম্ভব হয়েছিল ইন্টারনেট আর স্মার্টফোন সহজলভ্য ছিল না যখন সেই নব্বই দশকের গোড়ায় বাংলাদেশের সংবাদপত্র রঙিন ছাপানো শুরু হলে সুন্দর সুন্দর ছবি আর পেপার কাটিং সংগ্রহের নেশা।

বাবার ছিল ‘দেশ’ পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। তাঁর রেখে যাওয়া ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে অনেক বই আর পত্রিকা আমার সংগ্রহে আছে। বাংলা একাডেমিতে কাজের কারণেই বইমেলা দেখছি ২০০৭ সাল থেকে। তথ্যকেন্দ্রেই একদশক কেটে গেল। একদিন খেয়াল করলাম ট্যাবলয়েড সাইজে ঝলমলে বইমেলা বুলেটিন দিয়ে গেল কে যেন। হাতে নিয়ে এত ভালো লাগলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ভাবলাম বইমেলা নিয়েও এত সুন্দর আয়োজন হয়। সেই থেকে প্রেমে পড়ে গেলাম।

Balatain

সবসময় নজর থাকত কখন বুলেটিন মেলায় আসবে। দশ বছর আগে এত প্রকাশকও ছিল না আর বুলেটিন ছিল হাতেগোনা। আনন্দ আলো বইমেলা বুলেটিন, এসইএল (দি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লি.) ২১শে বইমেলা বুলেটিন, ট্রাস্ট কলেজ প্রতিদিনের বইমেলা, ড্রিমওয়ার্ল্ড বইমেলা ছুটির দিনে, বাবুই টিন@টিন বইমেলা বুলেটিন, পদক্ষেপ বইমেলা প্রতিদিন, বইবার্তা প্রতিদিন, ডাকটিকেট বুলেটিন দৈনিক বইমেলা, বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান বইমেলা প্রতিদিন, প্রিয়মুখ বইমেলা বুলেটিন ইত্যাদি সংগ্রহে আছে। শুনেছি পদক্ষেপ বইমেলা প্রতিদিন এমন আয়োজনের প্রবর্তক।
আনন্দ আলো এ বছর ১০ বছরে পা রাখলো। মেলায় যে বুলেটিনগুলো বেরিয়েছে প্রায় সব বুলেটিন সংগ্রহে আছে। আনন্দ আলো বইমেলা বুলেটিনের ২০১১ সালে প্রকাশিত বিশ্বের নামিদামি লাইব্রেরি, ২০১২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এবং ২০১৩ সালে বইমেলা দেশে দেশে শিরোনামে ধারাবাহিক লেখাগুলো খুব মূল্যবান বলে মনে হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কবি ফজল শাহাবুদ্দীন এর ইন্তেকালের পর তাঁকে নিয়ে সেইদনই প্রকাশিত বিশেষ বুলেটিন এর কথা বলতে পারি। তারা নিয়মিত প্রকাশ করছে শিশু, ভালোবাসা এবং একুশে নিয়ে বিশেষ আয়োজন।

প্রতিটি পত্রিকার আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য ছিল বা আছে যা পাঠকদের আকৃষ্ট করেছে। বইমেলা একসময় শুধুই ছিল বাংলা একাডেমিতে। কত গুণীজন, বটতলার নজরুল মঞ্চে মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বুলেটিনে প্রকাশিত সেসব ছবি আর খবর আজ শুধু স্মৃতি হয়ে আছে। বইমেলায় ঝড়বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড এবং আগুনে পুড়ে যাওয়ার প্রকাশিত ছবি আজও কষ্ট দেয়। বিশেষ করে গত দশ বছরে জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ, আবদুশ শাকুর, মুহম্মদ হাবিবুর রহমান, কবীর চৌধুরী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সরদার ফজলুল করিম, হুমায়ূন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক, কাইয়ুম চৌধুরী, নূরজাহান বেগম, শহীদ কাদরী, আবদুল মান্নান সৈয়দ, রফিক আজাদ, সমুদ্র গুপ্ত, শহীদ কাদরী, ফয়েজ আহ্মদ, এখলাসউদ্দিন আহ্মদ, সেলিম আল দীন, মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী, গাজীউল হক, আবদুল মতিন, জিয়া হায়দার, নওয়াজেশ আহমদ, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, বেবী মওদুদ, রণজিৎ বিশ্বাস, তিতাশ চৌধুরী, রতনতনু ঘোষ, সৈয়দ নাজাত হোসেন, ওবায়দুল গনি চন্দন, মাহবুবুল হক শাকিল-এঁদের কথা বলতে পারি যাদের কেউ আর বেঁচে নেই কিন্তু তাঁদের বই এখনও আলো ছড়াচ্ছে পাঠকদের কাছে। বুলেটিনে তাঁদের সাহিত্যকর্ম নিয়েও আয়োজন কমবেশি ছিল।

alatain
 
খুব কষ্ট লাগে খান শরিফুল ইসলাম নামের একজন ছড়াকারের কথা মনে পড়লে। আনন্দ আলো বুলেটিনের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ এর রিপোর্ট-‘চলে গেলেন অকুতোভয় এক কবি শরিফুল’। কর্মজীবনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এসআই ছিলেন। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ট্রান্সফর্মার চোর ধরতে গিয়ে ট্রাকে উঠলে ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়া হয়েছিল। বইমেলায় একজন বাঁশিওয়ালা আসতেন। যাকে নিয়েও রিপোর্ট হয়েছে। ইদানিং তাকে দেখি না। ‘৪০ বছর পর ক্যামেরার সামনে-ইনিই রকিব হাসান’ ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্ট কলেজ প্রতিদিনের বইমেলা যে রিপোর্টটি করেছিল সেটি সত্যিই পাঠকদের অন্যরকম আনন্দ দিয়েছিল। বইমেলা ঝড়বৃষ্টিতে পণ্ড কিংবা আগুনে বই পুড়ে যাওয়া রিপোর্টগুলো দেখলে ভারী কষ্ট হয়। জানি না এই সংগ্রহ কতদূর গিয়ে থামবে।

পুরনো বইমেলা বুলেটিনের পাতা যখনই ইচ্ছে হয় ঠিক তখনই উল্টালে ঘুরে আসতে পারি ফেলে আসা বইমেলার সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায়।
 
লেখক : সহকারী সম্পাদক, ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

এমআরএম/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...