Jago News logo
ঢাকা, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০১৭ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

কর্তৃপক্ষের শর্তে চলবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার
কর্তৃপক্ষের শর্তে চলবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো

বেসরকারি ১০টি মেডিকেল কলেজের প্রত্যেকটিকে এককোটি টাকা করে জরিমানা করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েব সাইটে ৩৭ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ পায়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সে ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেয়া শর্তানুযায়ী মেডিকেল কলেজগুলোকে চলতে হবে। এমবিবিএস, বিডিএস কোর্সে মেডিকেল গ্রাজুয়েশন সনদ দেয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসরণ না করায় ১০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজকে এ জরিমানা করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। জরিমানার অর্ধেক টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং বাকি অর্ধেক টাকা কিডনি ও লিভার ফাউন্ডেশনকে দিতে বলা হয়।

১০ দিনের মধ্যে এই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোকে বলা হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট এই রায় ঘোষণা করেন। তখন আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন। আজ ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তানুযায়ী একশ’ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ নম্বর পেতে হবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত লংঘন করে ওই দশটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করায়।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিবন্ধিত কলেজগুলোর গাইড লাইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সেটি না মেনে ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজগুলো শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, মেডিকেলের মানসম্মত শিক্ষার জন্য আইন তৈরি করার ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংসদ হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটা প্রতিষ্ঠিত যে আদালত তাদের পলিসি নির্ধারণে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এবং শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কোনো নীতিমালা ঠিক করে দিতে পারে না। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করাটা আইনত হবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আইন লঙ্ঘন করে সেক্ষেত্রে যেকোনো নাগরিক আইনের আশ্রয় নিতে পারবে।

জরিমানা করা বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো হলো- শমরিতা মেডিকেল কলেজ, সিটি মেডিকেল কলেজ, নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ, জয়নুল হক শিকদার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ, তাইরুন নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ, আইচি মেডিকেল কলেজ, কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও আশিয়ান মেডিকেল কলেজ।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, জরিমানা থেকে প্রাপ্ত ৫ কোটি টাকা ঢাবি কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সঞ্চয় (ফিক্সড ডিপোজিট) করবে। এই সঞ্চয় থেকে পাওয়া মুনাফা দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি হিসেবে দেবে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এ অর্থের ওপর ভ্যাট আরোপ না করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নির্দেশ দেয়া হয়। জরিমানার বাকি অর্ধেক হিসেবে ৫ কোটি টাকা ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন ও কিডনি ফাউন্ডেশনে জমা করতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে নির্দেশ দেন আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে কলেজগুলোকে ১৫৩ শিক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে কলেজগুলো ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না বলে আদেশে বলা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাবি কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি তদারকি করবে।

এফএইচ/এসএইচএস/আরআইপি

আপনার মন্তব্য লিখুন...