Jago News logo
ঢাকা, সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ৩ বছরে উন্নয়ন দৃশ্যমান


ফজলুল হক শাওন, বিশেষ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:৩৩ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
সরকারের ৩ বছরে উন্নয়ন দৃশ্যমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বছরে পা দিয়েছে আজ (১২ জানুয়ারি)। আগের দুই বছরের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় বছরেও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। উন্নয়নের ধারায় দেশ এগিয়ে গেলেও এ সময়ে দেশ পরিচালনায় সরকারকে অনেকটাই বেগ পেতে হয়েছে।

বিগত বছরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলেও জঙ্গিবাদের ভয়ঙ্কর থাবা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে খানিকটা হোঁচট খেতে হয়েছে সরকারকে। তারপরও কঠোর পদক্ষেপের কারণে জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সফল হয়েছে। এ সময়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে গেলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এতো কিছুর পরও দেশ এগিয়ে যাওয়া, অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ায় জাতি অনেকটাই স্বস্তিতে আছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে আজকের এই দিনে (১২জানুয়ারি) শপথ গ্রহণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এ হিসেবে গতকাল তিন বছর পূর্ণ হয়েছে বর্তমান সরকারের। এ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর নির্মাণ ও মেট্রোরেলের কাজ শুরুসহ বড় বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে সরকার। রাজধানীর পাশাপশি বদলে যাচ্ছে গ্রামের দৃশ্যপটও। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বসভায় বাংলাদেশ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারের তৃতীয় বছরে হরতাল ও অবরোধের মতো বৈরী অবস্থা ছিল না। আগুন সন্ত্রাস, পেট্রোলবোমা, বিদেশি নাগরিক ও ব্লগার হত্যার মতো পরিস্থিতিও ছিল না গত এক বছরে।

সরকারের গর্ব করার মতো বড় সাফল্যে ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির রায় কার্যকর। দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধী আলবদর বাহিনীর নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি এ বছর কার্যকর হয়েছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর দরিদ্রসীমার নিচে ছিল ৯২ শতাংশ মানুষ। আর মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় ছিল ১০০ ডলার। সময়ের ব্যবধানে দেশে দারিদ্রের হার নেমে এসেছে সাড়ে ২৩ শতাংশে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে অতিদারিদ্রের হার এখন ১২ দশমিক এক শতাংশ। মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৬ শতাংশের বাধা অতিক্রম করে প্রথমবারের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলারে। বেসরকারি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তকমা ঝেড়ে ফেলার যোগ্যতা অর্জনের অনেকটাই দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির সুবাদে সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশিত হারেই বেড়েছে। অবকাঠামোসহ নানা খাতে সরকার প্রতিবছর ব্যয় করছে লাখ কোটি টাকার বেশি। এক সময় খাদ্য চাহিদা পূরণ ও বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশি দাতাদের মুখের দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ এখন আর খাদ্য সহায়তা নেয় না। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থায়নের অভাবে ১৯৬৪ সাল থেকে আটকে থাকা রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। আর্থিক খাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেকটা সফলতা দেখাচ্ছে সরকার।

দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ এখন ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ ৬ লাখ ৭১ হাজার ৯ দশমিক ৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে জিডিপিতে তেজি ভাব অব্যাহত থাকবে, যা পকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি।

খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৩৯০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। কৃষিঋণ ১৭ দশমিক সাত হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৪ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াট। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের মনোযোগ ছিল দৃষ্টিগ্রাহ্য। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

তৃতীয় বছরে বিদেশে সাত লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। রফতানির পরিমাণ এখন ৩৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমদানির পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাজস্ব আয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। সাক্ষরতার হার ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৯ লাখ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পরে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। এর স্বীকৃতিও পাওয়া গেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের সক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করা যায়নি। অর্থনীতিতে আমাদের প্রায় সব অর্জন এসেছে খেটে খাওয়া মানুষের হাত ধরে।

বিদায়ী বছরে প্রথম বারের মতো মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখেছে বাংলাদেশ। আগামীতে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি আরও বাড়াতে জোর দেয়া হয়েছে অবকাঠামো উন্নয়নে। বিদ্যুতের উৎপাদন ও বিতরণে সাম্প্রতিক সময়ে নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প। এ সব প্রকল্প ঘিরেই আগামীতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তিন বছরের মধ্যেই ৮ শতাংশের ঘরে উঠবে প্রবৃদ্ধি, নতুন বছর ঘিরে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সকলে।

১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বাস। জনশক্তিতে রূপ দেয়ায় বিশাল এ জনগোষ্ঠী অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসেবে বাংলাদেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ এখন কর্মক্ষম। ২০২২ সালে কর্মক্ষম মানুষের হার ৬৯ শতাংশে উন্নীত হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। বিপুল জনশক্তির কর্মের নিশ্চয়তা দিতে অবকাঠামো উন্নয়নে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।

চলতি বছরের মধ্যে পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো গড়ে তুলতে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে নদীর দুই পারে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পদ্মা নদীর মাওয়া থেকে জাজিরা পর্যন্ত চলছে পাইলিং ও পিলার স্থাপনের কাজ। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি পিলার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে চলছে সেতুর কাঠামো নির্মাণের কাজ। এক কথায় দেশের সর্ববৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন কর্মমূখর পদ্মার দুই তীর।

অবকাঠামো খাতে বেশ বড় কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এ সব প্রকল্পের কাজ শেষে দেশের চেহারা অনেকটাই পাল্টে যাবে। পদ্মা সেতু চালু হলে মোট দেশজ আয় ১ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এছাড়া রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চারলেনে রূপান্তর করা হয়েছে। চার লেনের কাজ চলছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলো ডাবল ট্র্যাকে উন্নীতের কাজও চলছে।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯শ ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আলোচিত কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি। এ সব প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতু ছাড়াও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চলছে মেট্রোরেল নির্মাণের দরপত্র আহ্ববানের প্রক্রিয়া।

রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত প্রকল্পের উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে ২০১৮ এর ডিসেম্বরের মধ্যে। দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রকল্পটিকে ফাস্টট্রাক প্রকল্পে যোগ করা হয়েছে। জ্বালানী চাহিদা পূরণে মহেশখালীতে নির্মাণ হচ্ছে এলএনজি টার্মিনাল। তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্যই এ টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় তৈরি পোশাক, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৪৭ হাজার ৪শ’ জনকে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ২ লাখ ৬০ হাজার জনকে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান ও ১ লাখ ৮২ হাজার জনের কর্মসংস্থান তৈরীর কাজ চলছে। কৃষি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে বাড়ছে শিল্পখাতে।

১৫ বছর ধরে জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নে সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ খাতে প্রতিবছর ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও দাতারা শেষ পর্যন্ত ছাড় করেছে গড়ে ১৭৯ কোটি ডলার। লক্ষ্য অর্জনে অর্থ সঙ্কট বাংলাদেশের সামনে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে ২১টি টার্গেটের ১৩টি নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা হয়েছে।

বাজেট বাস্তবায়নে বরাবর বড় ব্যর্থতা থাকলেও এবার অর্থনীতির প্রায় সবগুলো সূচক ইতিবাচক। রাজনৈতিক পরিস্থিতিশীল। চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বড় কোনো দুশ্চিন্তা নেই সরকারের। ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ের বাজেট বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর প্রধান ভরসার খাত রাজস্ব আয়। আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসে রাজস্ব খাতে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশে বর্তমানে জিডিপির মাত্র ১১ শতাংশ কর আদায় হয়। এ হার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাইছেন অর্থমন্ত্রী।

গত ৮ বছরে দেশে কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। খাদ্যে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদনে প্রতি বছর সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে তার শতভাগ পূরণ হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন আবিষ্কার দেশকে শুধুই অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু খাতে গুরুত্ব দেয়ায় সব মানুষের সক্ষমতাই বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে জীবন যাত্রার মানও। শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশনা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানান সরকারের সিনিয়র সচিব পর্যায়ের এ কর্মকর্তা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আগের চেয়ে বেড়েছে। জনকল্যাণমুখী সামাজিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে, দেশে মানবাধিকারসহ মতপ্রকাশের বিষয় সংকুচিত হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড রয়েছে। নারী ও শিশু অধিকারের বিষয় এখনও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এফএইচএস/এমআরএম/এমএমজেড/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...