Jago News logo
ঢাকা, সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

যৌবন ফিরে পাচ্ছে গুলশানের গুদারাঘাট


সায়েম সাবু ও আবু সালেহ সায়াদাত

প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৮:১৮ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
যৌবন ফিরে পাচ্ছে গুলশানের গুদারাঘাট

যান্ত্রিক নগরীতে পরিবহন সমস্যা ক্রমেই প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষকে কর্মস্থলে ছুটে বেড়াতে হয়। তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে যথাসময়ে পৌঁছাতে না পাড়ার বেদনা নিত্যদিন নগরবাসীকে পীড়া দেয়। ২০১২ সালের কথা। ঘটা করে উদ্বোধন করা হয় রাজধানী ঘিরে থাকা নদীগুলোতে ওয়াটার বাস। লক্ষ্য ছিল রাজধানীবাসীর যাতায়াতে দুঃখ লাঘব করা। গাবতলী থেকে বাবুবাজার, বাদামতলী ও সদরঘাট পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার পথ যানজটমুক্ত, আরামদায়ক ও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। বিআইডব্লিউটিসির এ উদ্যোগে এক বুক স্বপ্নও বেঁধেছিল রাজধানীবাসী। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আশা যেন দুরাশায় রূপ নেয়। বর্তমানে প্রায় ব্যর্থ এ প্রকল্প। অপরদিকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতিরঝিলে এফডিসি থেকে মেরুল বাড্ডা ও গুলশান গুদারাঘাটে সম্প্রতি চালু হওয়া ওয়াটার বাস সার্ভিস স্বল্প সময়ের মধ্যে জনগণের মাঝে আশা জাগিয়েছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিকতা থাকলে যে একটি প্রকল্প সফল হতে পারে তার জ্বলন্ত উদাহরণ হাতিরঝিলের ওয়াটার সার্ভিস। জাগো নিউজের একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মী সরেজমিন দুটি প্রকল্প ঘুরে এসে একাধিক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

নদীঘেরা রাজধানী ঢাকার রূপ বদলেছে বহুকাল আগেই। নদীর বুক কংক্রিটে চাপা দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে দিন দিন। রাজধানীর কোথায় নদী ছিল, তা আজ সবই ইতিহাস। নদী বলতে যা আছে, তাও মৃতপ্রায়।

Gudaraghat

যেখানে নদীর নিশানাই মিশে গেছে কথিত উন্নয়নের ঝড়ে, সেখানে ঘাটের নিশানা কল্পনায়ও মিলবে না আর সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু না ইতিহাস হয়ে যাওয়া একটি ঘাটে প্রাণ ফিরছে আবারও। তাও আবার রাজধানীর একেবারে প্রাণকেন্দ্রে।

রাজধানী গুলশান লেকপাড়ের একটি জায়গার নাম গুদারাঘাট। ঘাট তো পরের কথা কোনোকালে এখানে নদী ছিল, তাও মনে করতে পারছে না এখানকার মানুষ। লেকের ওপর দিয়ে পিচ ঢালা সড়ক। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক এটি।  

সড়কের পাশেই ঘাট করা হয়েছে। ১৫ মিনিট পর পর নৌকা ভিড়ছে সে ঘাটে। লাইনে দাঁড়িয়ে তাতে যাত্রী উঠছে। যেন রীতিমতো মিরাক্কেল। যাত্রীদের মুখে মুখেও গুদারাঘাট। যৌবন ফিরছে কালের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া গুদারাঘাটের। তবে লগি বা বৈঠাচালিত নৌকায় নয়, আধুনিক ট্যাক্সি বোটে।

Gudaraghat

রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘাটে ট্যাক্সি ভেড়া দেখছিলেন রিকশাচালক আব্দুর রহিম। বলেন, আমাদের কাছেও এটি ঘাট বলেই পরিচিত। তবে নৌকা ভিড়ছে বলে এখন সত্যিকার ঘাট বলে মনে হচ্ছে।

হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনার কাজটি ২০ বছরের জন্য পেয়েছে করিম গ্রুপ। প্রতিদিন চারটি ট্যাক্সিতে যাতায়াত করেছেন প্রায় ৩ হাজার যাত্রী। যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এপ্রিলের মধ্যে আরও চার থেকে ছয়টি ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।  

২০০৭ সালে শুরু হয় হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ। ৩০২ একর জমির ওপর চলে সংস্কারকাজ। ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর হাতিরঝিলে চালু করা হয় চক্রাকার বাস সার্ভিস। ভাবা হচ্ছিল জলযানের কথাও। বিজয়ের বিশেষ দিবসে বাস্তবায়ন করা হয় নতুন এ পরিকল্পনা। হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস সুবিধা গুলশান ও বারিধারা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এএসএস/এসএইচএস/আরআইপি

আপনার মন্তব্য লিখুন...