Jago News logo
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৫ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার | আপডেট: ০৮:৫৪ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে

ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সাবেক নির্বাচন কমিশনার। নিরাপত্তা বিশ্লেষক। গবেষণা করছেন নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনীতি নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেন মতামত। নির্বাচন ব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছে, এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বিপদ আরও ভয়াবহ হবে বলে মত দেন তিনি।

জাগো নিউজ : আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হলো। সার্চ কমিটির আহ্বানে আপনিও মত দিয়েছিলেন। নতুন কমিশন নিয়ে কি বলবেন?
সাখাওয়াত হোসেন : নতুন কমিশনের সবাইকে চিনি না। আমার মতো অনেকেই তাদের সবাইকে চেনে না। এ কারণে কমিশন নিয়ে মানুষের প্রথমত যে ধারণা প্রকাশের কথা, তা হচ্ছে না। আমি দুজনকে চিনি। একজন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। অন্যজন ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদত হোসেন আমাদের সঙ্গে প্রথম দিকে নির্বাচন কমিশনে পিডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভোটার তালিকা প্রণয়নে ভালো কাজ করেছিলেন। আর লেখালেখির কারণে মাহবুব তালুকদারকে চিনি।

জাগো নিউজ : তাহলে পরিচিত দুজনের ব্যাপারে ধারণা তো ইতিবাচক?
সাখাওয়াত হোসেন : ওই সময় তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছিলেন না। তাই তারা নীতির প্রতিফলন কীভাবে ঘটান সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জাগো নিউজ : সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করলেন। কী আলাপ হয়েছিল সেখানে?
সাখাওয়াত হোসেন : সম্প্রতি কমনওয়েলথ বলেছে, নির্বাচন কমিশনে যারা সদস্য হবেন, তাদের ব্যাপারে নাগরিকদের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তাদের চরিত্রের ব্যাপারেও জনমনে সম্মুখ ধারণা থাকতে হবে। সার্চ কমিটির সঙ্গে প্রথম যে ১২ নাগরিকের আলোচনা হয়, সেখানে সবাই প্রায় এ কথাই বলেছি।

sakhawat-insert

জাগো নিউজ : নতুন কমিটি গঠনে আপনাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করেন?
সাখাওয়াত হোসেন : দৃশ্যমান কোনো কিছু বলার সময় আসেনি। নাগরিকদের মতামতের কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে, তা হয়তো পরে বোঝা যাবে।  

জাগো নিউজ : কিন্তু বিতর্ক তো আগেই শুরু হলো?
সাখাওয়াত হোসেন : হ্যাঁ, এ বিতর্ক নির্বাচন কমিশনের জন্য কোনোভাবেই ভালো নয়। অন্যদের বিষয় তেমন নয়, সিইসিকে নিয়ে যখন বিতর্ক হয়, তখন পুরো চাপ এসে পড়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর। আমি এখনই বলতে পারছি না এ বিতর্কের শেষ কোথায়? তাদের কাজের মধ্য দিয়েই সব প্রমাণ হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে এ মুহূর্তে আর কিছু বলা ঠিক হবে না।

জাগো নিউজ : সার্চ কমিটির মাধ্যমে রকিব কমিশনও গঠন হয়েছিল। নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে রকিব কমিশনের বিদায়। রকিব কমিশনের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া কি?
সাখাওয়াত হোসেন : ১৯৯১ সালের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব বেড়েছে।বিতর্ক থাকলেও ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত নির্বাচনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে দুই ধরনের বিতর্ক দেখছি। নির্বাচনের ফলাফলের পর, যা সমালোচনা থাকলেও মেনে নেয়া হয়। দ্বিতীয় বিতর্ক কমিশনের নিজেদের।

sakhawat-inser

জাগো নিউজ : রকিব কমিশনের সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে কিন্তু বিতর্কিত ছিল না...
সাখাওয়াত হোসেন : হ্যাঁ, ওই সময় প্রধান বিরোধী দলও রকিব কমিশনকে মেনে নিয়েছিল। প্রথমদিকে কয়েকটি নির্বাচন ঠিকঠাক করেছিলেন বটে। পরে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এমন কিছু বিতর্ক জন্ম দিয়েছে রকিব কমিশন, যার দায় শুধু তাদেরই। রকিব কমিশনের ব্যর্থতা যথেষ্ট বলেই বিবেচিত। এ কারণেই নতুন কমিশন গঠন নিয়ে এতো হৈ-চৈ।
 
সাধারণ মানুষও নির্বাচন কমিশন গঠনে সম্পৃক্ত হয়েছে। আগে কিন্তু এমনটি দেখা যায়নি। নতুন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যে বেশি, এর কারণ হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ড। ব্যাকগ্রাউন্ডে যে ব্যর্থতা, তার জন্য রকিব কমিশন দায়ী।

জাগো নিউজ : সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশন গঠন করলো। প্রশ্ন আছে সার্চ কমিটি নিয়েই। আপনার কাছে কী মনে হয়?
সাখাওয়াত হোসেন : যে প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটি গঠন হওয়ার কথা ছিল, তা তো হয়নি। আগে নামে মাত্র একটি প্রজ্ঞাপন দিয়েই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হতো। এখন মানুষ কমিশন গঠন নিয়ে ব্যাপক সোচ্চার। শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও মানুষ নির্বাচন কমিশন নিয়ে সোচ্চার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাগো নিউজ : রকিব কমিশনের ব্যর্থতার কথা বলছিলেন। বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনৈতিক দলের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কমিশনেরই বা কী করার আছে?  
সাখাওয়াত হোসেন : কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে। কমিশনের আইনে, পরিপত্রে ক্ষমতার কথা স্পষ্ট করে বলা আছে। কিছু ক্ষমতা লিখিত আবার কিছু ক্ষমতা অলিখিতভাবে দেয়া আছে। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কমিশন অনেক সময় হয়তো অনেক কিছুই করতে পারে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ থাকতে পারে। সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকেও রাজনৈতিক প্রভাব দমিয়ে বা কমিয়ে রাখাই হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সার্থকতা।

sakhawat-insert

ভালো পরিবেশে ভালো নির্বাচন করলে আসল স্বাদ বোঝা যায় না। প্রতিকূল পরিবেশে ভালো একটি নির্বাচন উপহার দেয়াই হচ্ছে আসল মজা। নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন কমিশনের কোনো সফলতা আছে বলে মনে করি না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০১১ সালে যে টেস্ট ছিল, ২০১৬ তে ছিল না। প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচন সুষ্ঠু করাই হচ্ছে কমিশনের আসল ক্ষমতা।

জাগো নিউজ :  প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচনে সফলতা আনার জন্য কমিশনের আইনকে যথেষ্ট বলা যায়?
সাখাওয়াত হোসেন : প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলার জন্য যথেষ্ট আইন আছে। আইন প্রয়োগের মানসিকতা থাকলে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো যায়।

এএসএস/এএইচ/আরআইপি

আপনার মন্তব্য লিখুন...