Jago News logo
ঢাকা, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০১৭ | ১১ চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

এবার ‘প্রতিবন্ধী’ লীগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার | আপডেট: ১০:১৬ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার
এবার ‘প্রতিবন্ধী’ লীগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে প্রায় শতাধিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটার পর এবার প্রস্তাব এসেছে ‘প্রতিবন্ধী’ লীগ নামের এক সংগঠনের। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রস্তাবিত এ সংগঠনটির ‘চূড়ান্ত প্রস্তুতি সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এসব সংগঠনগুলোর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয় না। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রশ্ন থাকে না। তবে এসব সংগঠনগুলো যদি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলার সাহায্য নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫.(১) অনুযায়ী দলটির ৭টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর বাহিরে দুটি সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নাম গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে। তবে এরা স্ব স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কারো নামে কোনো সংগঠন করতে হলে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ট্রাস্টের কোনো নিয়ম-নীতির কথা উল্লেখ না থাকায় এর দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে এখন পর্যন্ত ১৭৮টি রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট ও বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন (উন্নয়ন প্রকল্প) প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টে সংগঠন অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে নিদিষ্ট কোনো নিয়ম-নীতি না থাকায় কাউকে সংগঠন করার অনুমোদন দেয়া হয় না। তবে সংগঠনের অনুমোদন দেয়া না হলেও সাংস্কৃতিক লীগ ও বঙ্গবন্ধু একাডেমি নামে দুটি সংগঠন অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে।

এসব অনুমোদনহীন সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেলর নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে গঠন করা হয়েছে বেশ কিছু সংগঠন। এর মধ্যে ‘সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ’ ‘সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ’ অন্যতম।

সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। এসব সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দেখা যায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের। অনেক মন্ত্রীরও এসব আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।

তবে এসব সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘কেউ “সজীব ওয়াজেদ জয় লীগ” খুলে বসেছেন। এই লীগ পুরোপুরি অনুনমোদিত এবং আমার ও আওয়ামী লীগের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কোনো সংগঠন করতে হলে দলের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। কোনো সংগঠন অনুমোদন চাইলে আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট্রের কাছে পাঠাই। সেখান থেকে অনুমোদন নিতে হয়।’

আওয়ামী প্রতিবন্ধী লীগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরণের নামে কোনো সংগঠন অনুমোদ চেয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে এ ধরণের সংগঠনগুলোর বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসলে যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ৭টি সংগঠনের বাহিরে আর কোনো সংগঠনের অনুমোদন দেয়া হয়নি। সুতরাং এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের কাজ নয়। তবে এসব সংগঠনের নেতারা আমাদের দলের নাম করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে প্রশাসন এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনকে সাহায্য করবো।

এসব সংগঠনের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশ গ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেন, যেসব নেতরা অংশ গ্রহণ করেন তারা তাদের নিজ দায়িত্বে অংশ গ্রহণ করেন। তবে এসব নেতারা যদি সংগঠনগুলোর দায়ভার নেন এবং সেখানে কোনো বক্তব্য প্রদান করে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সংগঠন করতে হলে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন লাগে। কোনো প্রতিষ্ঠান করতে গেলেও অনুমোদন নিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লীগের ক্ষেত্রে সেভাবে বাধ্যবাধকতা কথা বলা না থাকলেও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ ট্রাস্ট থেকে নামের ছাড়পত্র নিয়েছিল। আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এভাবে আগাছার মতো বঙ্গবন্ধুর নামে ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামে সংগঠন গড়ে তোলা দল সমর্থন করে না।’
 
প্রতিবন্ধী লীগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এগুলো দৃষ্টিকটু, ভুঁইফোড় এবং চাঁদাবাজি করার জন্য। এগুলো বিভিন্ন সময়ে আমরা সতর্ক করেছি, এ ধরণের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের দলীয়ভাবে সংশ্লিষ্টতা নেই।’

এইউএ/আরএস/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...