কাসাভা চাষে সফল খাগড়াছড়ির কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

নানামুখী সম্ভাবনার পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে কাসাভা চাষে সফল হয়েছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে মানিকছড়ির হাফছড়ি এলাকার কৃষক সুমতি কুমার চাকমা কাসাভা চাষে সফল হয়েছেন। তার দেখাদেখি পাহাড়ের টিলাভূমিতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে কাসাভা চাষ বাড়ছে। ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভিত্তিতে উৎপাদিত কাসাভা ঢাকার বিভিন্ন আড়তদারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের কাছে বিক্রি হচ্ছে।

কাসাভা চাষি সুমতি কুমার চাকমা জানান, তিনি এ মৌসুমে ৫ একর পাহাড়ি টিলাভূমিতে কাসাভা চাষ করেছেন। সেখানে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন কাসাভা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি কাসাভা ৮ টাকা দরে বিক্রি করে চলতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আয় হবে। একই কথা জানান অপর কাসাভা চাষি মো. আব্দুল হাই। তিনি আরও জানান, অল্প পুঁজিতে কাসাভা চাষে বেশি লাভ হয়।

Kasava-in-(2).jpg

গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি একসময় পাহাড়ে-জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মালেও পার্বত্য খাগড়াছড়িতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে ‘শিমুল আলু’ নামে পরিচিত গাছটির পাতা দেখতে অনেকটা শিমুল গাছের মতোই। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কাসাভাতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উপশম ছাড়াও ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে কাসাভা।

> আরও পড়ুন- রাজবাড়ীতে বেড়েছে হলুদের আবাদ

জানা গেছে, বৈশাখ মাসে রোপণ করার পর পৌষ-মাঘ মাসে কাসাভার ফলন তুলতে পারে কৃষকরা। কাসাভার খাদ্যমানের মধ্যে ১০ শতাংশেরও বেশি প্রোটিন রয়েছে। অ্যামাইনো অ্যাসিড ও কার্বোহাইড্রেট আছে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ শতাংশ।

কাসাভা আলুকে প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে আটা ও স্টার্চ পাওয়া যায়। আটা দিয়ে রুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবার পাওয়া সম্ভব। কাসাভার আটা দিয়ে রুটি ছাড়াও পাপর, চিপস, নুডলস, ক্রাকার্স, বিস্কুট, কেক, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি করা যায়।

Kasava-in-(2).jpg

প্রতি কেজি আলু থেকে আটা ও স্টার্চ মিলিয়ে প্রায় ৩৪০ গ্রাম পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব। এক হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ২৫.৫ মেট্রিক টন কাসাভা আটা ও স্টার্চ পাওয়া সম্ভব। এছাড়া কাসাভা বেশ উপাদেয় খাবার হিসেবেও বিবেচিত। কাসাভা থেকে কেবল খাবারই তৈরি হয় না, এ থেকে তৈরি স্টার্চ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

> আরও পড়ুন- নোবিপ্রবিতে ড্রাগন ফল চাষে সফলতা

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রশীদ আহমদ জানান, যথাযথ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে কাসাভা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় ভাতের বিকল্প খাবার হিসেবে বিবেচিত।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এসইউ/এমএস