ঈদ মৌসুমে ব্যস্ততা বেড়েছে মেহেদি চাষিদের

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ০১ জুন ২০১৯

ঈদের নতুন পোশাক, জুতাও কেনা শেষ। প্রসাধনীর বাজারও টুকিটাকি বাসায় আনা হয়েছে। বাকি শুধু হাত রাঙানোর মেহেদির আল্পনা। বাহারি নকশায় সাজাবে দুই হাত, ঈদ ঘিরে তরুণীদের মাঝে শুধু তারই বন্দনা। পাশাপাশি ছেলেরাসহ নানা বয়সী মানুষও ঈদে মেহেদি পড়তে দেখা যায়। তবে সহজলভ্যতা ও ঝামেলা এড়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে টিউব মেহেদিই অনেকটা বাজার দখল করে রেখেছে। তবে গাছের মেহেদির কদর কিন্তু একবিন্দুও কমেনি।

প্রকৃতির এমন মেহেদি চাষ করে স্বাবলম্বী সাভারের অনেক চাষি। আর বছরের এ সময় বাড়তি মুনাফা ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তারা। বিশেষ করে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামলাসী, বাহেরচরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মেহেদি চাষ করা হয়।

mehedi

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাভারে প্রায় ১৬ হেক্টর জমিজুড়ে মেহেদি পাতা চাষাবাদ হচ্ছে। এ কৃষিকে পুঁজি করে জীবিকার মাধ্যমে প্রায় ৫০টি পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এ চাষ প্রক্রিয়া খুবই সামান্য খরচেই করা যায়। একবার রোপণ করা গাছ থেকে একাধিকবার ডগা কেটে রোপণ করে মেহেদি উৎপাদন করা যায়। একটি মেহেদি গাছ থেকে বছরে পাঁচবার ডালসহ পাতা পাওয়া যায়।

মেহেদি চাষি আব্দুল জলিল জানালেন, ‘বাজারে প্রক্রিয়াজাত মেহেদির তুলনায় চাষ করা মেহেদির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি বিক্রেতারা এসে মেহেদি কিনে নিয়ে যায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমে মেহেদির চাহিদা অনেক বেশি থাকে।’

mehedi

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মনোয়ারা আক্তার মনি বলেন, ‘হাতে বাহারি নকশা তৈরিতে মেহেদির কোন জুড়ি নেই। বাজারের কেনা মেহেদিতে অনেকটা ভেজাল থাকে। তবে চাষ করা মেহেদি অনেকটা গুণগত। তাই চাষ করা মেহেদি আমাদের পছন্দের তালিকায় থাকে।’

চাষি করিম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমাকে মেহেদি চাষ করার পরামর্শ দিলেন। শুরুর দিকে কিছুটা ঝামেলাপূর্ণ মনে হলেও দিনে দিনে লাভের মুখ দেখতে থাকি। অল্প খরচ করেই অধিক মুনাফা পাওয়া যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে এখানে মেহেদি কিনতে। এক আঁটি ১২-১৫ টাকা।’

mehedi

মিরপুর-১২ থেকে আসা ক্রেতা বলেন, ‘প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা করা যে কোন পণ্যই বিশেষ পছন্দ আমার পরিবারের। প্রতি মাসেই আমরা চুলে মেহেদি ব্যবহার করে থাকি। চাষ করা মেহেদিতে কোন ক্ষতিকর উপাদান নেই এবং দামে অনেকটা সস্তা।’

উপজেলা কৃষি অফিসার নাজিয়াত আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে চাষাবাদ কৌশল, কখন, কিভাবে চাষ করা যায় এসব তথ্য দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সরকারি কোন নিয়ম না থাকায় মেহেদি চাষিদের কোন ধরনের ঋণ সহায়তা দেওয়া হয় না।’

মোহাম্মদ রনি খাঁ/এসইউ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :