আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৯

শরীয়তপুরে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা এখন ধান কাটায় ব্যস্ত। সরকার আমন ধান কিনবে শুনে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের তদারকি ও পরামর্শে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্য ধানের চেয়ে এর বাজার মূল্য একটু বেশি হওয়ায় কৃষকরা খুশি। কৃষি বিভাগ আশা করছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলায় আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে বোনা আমন ৮ হাজার ৪৯০ হেক্টর, রোপা আমন ৮ হাজার ৮০ হেক্টর, ৩০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ৩ হাজার ৯৮ হেক্টর জমিতে উফশির লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৩ হেক্টর।

rice1

আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪১ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ধারণা লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জন হতে পারে ৬২ হাজার ৫৩৮ মেট্রিক টন। অর্জিত ধানে ৪১ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন চাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক পাবেলুর রহমান সিকদার বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর বোনা আমনের চাষ ভালো হয়েছে। আশা করছি এবার ধান বিক্রি করে কৃষি ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।’

rice1

জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর গ্রামের কৃষক শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘গত বছর পোকার আক্রমণে আমার দুটি জমির ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার কৃষি অফিসের স্যারেরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।’

জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক এসএম তাহসিনুল হক বলেন, ‘এই প্রথম সরকার আমন ধান কিনছে। এ বছর ৬টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন আমন ধান কেনা হবে। যার প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে।’

rice1

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমীর হামজা বলেন, ‘শরীয়তপুরের নিম্নাঞ্চল আমন আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর উন্নত জাতের বোনা আমন চাষে মাঠ পর্যায়ে কারিগরি সহযোগিতাসহ উদ্বুদ্ধকরণের কাজ নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া লোকসান থেকে রক্ষা পেতে সরকার আমন ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে।’

মো. ছগির হোসেন/এসইউ/এমকেএইচ