ভরাট কাজে কৃষিজমির মাটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চান মতিয়া চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৫ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২০

 

বাঁধসহ সকল ভরাট কাজে টপ সয়েল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চান সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বঙ্গবন্ধু ও টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনায় শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনা : প্রেক্ষিত-২০২০’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির এ সভার আয়োজন করে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কৃষিজমির জন্য পানি খুব জরুরি। কিন্তু এর পরিমাণটা একটা নির্দিষ্ট হতে হয়। পানি বেশি হলেও সমস্যা আবার কম হলেও সমস্যা। পদ্মা, মেঘনা, সুরমা, যমুনা, গোমতি, শীতলক্ষ্যাসহ অনেক নদী আছে, যেসব নদীর নাব্যতা কমে গেছে। যার ফলে ভাঙন দেখা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই ভাঙনে নদীর পাড় মেরামত, বাঁধ তৈরিসহ ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কৃষিজমির মাটি। এতে করে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে, মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এমনকি ইটের ভাটার সব মাটি কৃষিজমি থেকে নেয়া হচ্ছে। যেই মাটিটা কৃষিজমি থেকে নেয়া হচ্ছে, সেটা কিন্তু টপ সয়েল, যাকে আমরা উর্বর মাটি বলি। সেই মাটিটাই অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে ফসল বাড়বে কীভাবে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব এই টপ সয়েলটা ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজনে নদী খনন করে সেই মাটি ব্যবহার করুন। আপনারা টপ সয়েল ব্যবহার নিষেধ করে দিন।’

নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই সেমিনারে নদী খনন ও বাঁধ দেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নদীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণে আমরা দেখতে পাই, কোনো কিছু হলেই মলম লাগাও। এই মলম লাগানো বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’

এ সময় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘আমাদের এখন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, নদী নিয়ে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। নদী ভাঙনের স্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে, মোট এক হাজার ৬০০ কিলোমিটারের অধিক বাঁধের মধ্য এক দুই কিলোমিটার ভাঙনে পড়েছে। আশা করি, সব প্রজেক্টের কাজ শেষ হলে বাঁধ ভাঙবে না, স্থায়ী সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছি, যেমন নদীর বাঁধ উঁচু করা, হাওর অঞ্চলে নিচু বাঁধগুলোকে উঁচু করা। তাছাড়া দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। স্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সকল চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির সদস্য সচিব মো. আবদুস সবুর বলেন, ‘আম্ফানে উপকূল এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ফুট জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সাতক্ষীরা এবং খুলনা এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমান বন্যার কারণে ৩৩ জেলার ৪৪ ভাগ পানি প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে বুয়েটের পুরাকৌশল বিভাগের সাবেক ডিন এম মনোয়ার হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মো. আরিফুজ্জামান ভূইয়া।

এইউএ/এফআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]