প্রাণিসম্পদের উন্নত জাত গ্রামে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রাণিসম্পদের উন্নত প্রজাতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবেষণার ফল আমরা পৌঁছে দিতে পারব। ফলে মাংস, দুধ ও ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা রফতানি করতে পারব। গবেষণালব্ধ ফলাফল গ্রামগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিলে গ্রামীণ জনগণ উৎসাহিত হবে, নিজেরা খামার করে তাদের বেকারত্ব দূর হবে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আন্তর্জাতিক মানের অ্যান্টিমাক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) গবেষণাগার উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিএলআরআই মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও সুবোল বোস মনি। অন্যদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Rejaul-Karim-1

শেখ হাসিনার শাসনামল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্বর্ণালী যুগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এদেশের মানুষের সকল চাহিদা পূরণ করে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এটা সমকালীন ইতিহাসে অনন্য, অসাধারণ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামল অনন্তকাল প্রেরণা জোগাবে স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে। একটি জাতিকে কীভাবে সমৃদ্ধ করতে হয়, পুষ্টিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হয়, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হয় এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বের ইতিহাসে শেখ হাসিনা যেভাবে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন, এর দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত বড় বড় রাষ্ট্রের কেউ দেখাতে পারেননি। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা তার নেতৃত্বে গর্বিত।

বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবন গোটা জাতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বে যে পরিমাণ প্রোটিন ও পুষ্টির প্রয়োজন হবে সে চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জোগান বাড়াতে হবে। যে জাতি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চায় না, পরিশ্রম করে না, বিকশিত করার জন্য মেধাকে কাজে লাগায় না সে জাতি এগোতে পারে না। এ জন্য মেধা, বিচক্ষণতা ও যোগ্যতাকে বিকশিত করে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করতে হবে। সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশকে লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিএলআরআইয়ের গবেষণা ও সৃষ্টি অনন্তকাল আমাদের সমৃদ্ধির পথে জোগান হয়ে দাঁড়াবে।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএলআরআইয়ের ফডার গবেষণা ও উন্নয়ন ভবনে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছবি দিয়ে সজ্জিত ‘বঙ্গবন্ধু আলোকচিত্র গ্যালারি’ এবং বিএলআরআই ক্যাম্পাসে ফলজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বাগান উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

এছাড়া বিএলআরআই ক্যাম্পাসে পাঁচুটিয়া খামার, বিদেশি ভেড়ার খামার ও মহিষের খামার পরিদর্শন করেন তিনি। এদিন বিকেলে সাভারে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতাধীন পোল্ট্রি ও ছাগল খামার, গবাদিপশুর খাদ্য তৈরির টিএমআর মিল এবং মৎস্য অধিদফতরের আওতাধীন মৎস্য মাননিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।

এমইউএইচ/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]