বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আতিকুল ইসলাম ছাড়া আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা হলেন উত্তরা পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহিনুর মিয়া, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বশির উদ্দিন ও মহানগর উত্তরের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও বিএম সুলতান মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার মইনুল করিম ও সাইমুম রেজা।
এ দিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি প্রশ্ন তোলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আতিকুলের রাজনৈতিক পরিচয় কী? তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী?’
আরও পড়ুন আতিকসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠালেন ট্রাইব্যুনালজবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় সাক্ষীরা জবানবন্দিতে এই আসামিদের নাম বলেছেন।’ তখন আদালত বলেন, ‘টকশোতে দেখলাম অনেক মামলা হয়েছে, বাদী জানে না।’
এরপর শুনানি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ মার্চ দিন ঠিক করা হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘আতিকুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে।’
প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ আদালতকে বলেন, ‘আতিকুল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। জুলাই-আগস্ট গণহত্যা চালানোর সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ২০০ এর মতো মানুষ মারা হয়েছে। সেখানে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত দিয়েছেন। তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না।’
আদালত বলেন, ‘মেয়র থাকা কোনো অপরাধ না। অভিযোগ কী সেটা বলেন। যা নিয়ে আসবেন তাই আদেশ দিয়ে দেবো?’
এসময় সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘উত্তরা এলাকার গণহত্যার অভিযোগ। আমরা প্রতিবেদন দেওয়ার সময় বিস্তারিত বলবো।’
এফএইচ/বিএ/এএসএম