উপকূলের সংসদ সদস্যরা যথাযথভাবে দাবি তুল ধরতে পারেননি বলে উপকূল এখনো অরক্ষিত, এমনটি দাবি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) এমপি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ এ সভায় কক্সবাজারের সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে রোয়ানুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের বসতবাড়ি পাকাকরণের দাবি জানান। পাশাপাশি অত্যাসন্ন বর্ষা এবং রমজানে দুর্গতদের ভিজিএফ কার্ডের আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চলমান রাখার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন। এছাড়া যত দ্রুত সম্ভব বিলীন হওয়া বাধ টেকসইভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নিতেও মন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তারা।সভায় এমপি ও অন্যান্যদের দাবির উত্তরে মন্ত্রী বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় আক্রন্ত মানুষগুলো ত্রাণের চেয়ে টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। অথচ এসব দাবি হওয়া উচিত সংসদ সদস্যদের। ১৯৯১ সালের পর ২৬ বছর কেটে গেছে। কিন্তু উপকূলীয় আসনগুলো থেকে সংসদে যাওয়া কোনো এমপি বিলীন হওয়া বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেননি। তাই বছরের পর বছর সংস্কারহীন থাকতে থাকতে বাধগুলো আজ সমুদ্র পৃষ্ঠের সঙ্গে সমান্তরাল হয়ে গেছে।ত্রাণমন্ত্রী মায়া আরো বলেন, জেলা সদরে বসে স্থায়ী বাধ তৈরি ও দুর্গতদের পুনর্বাসনের দাবি না তুলে ধরে সংসদে দাবি উত্থাপন করুন। উপকূল রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক। যথাযথভাবে দাবি উত্থাপন করা গেলে অতিসহসা-ই ক্ষতিগ্রস্ত বাধ টেকসইভাবে নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হতে পারে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রিয়াজ আহমেদ, কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সাইমুম সরোয়ার কমল, উখিয়া-টেকনাফের আবদুর রহমান বদি, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার আশেক উল্লাহ রফিক, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের হাজী মাহাম্মদ ইলিয়াছ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, কক্সবাজার পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান, চকরিয়া পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী, মহেশখালীর পৌর মেয়র মকছুদ মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. পঁ চ নু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক আ ফ ম আলাউদ্দিন খানসহ বিভিন্ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ।সায়ীদ আলমগীর/বিএ